Views Bangladesh Logo

বাংলা একাডেমিতে জুলাই নিয়ে কবিতা পাঠে হট্টগোল, মঞ্চে বাধার মুখে মোহন রায়হান

জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে বাংলা একাডেমির আয়োজিত স্বরচিত কবিতা পাঠের একটি অনুষ্ঠানে নিজের লেখা কবিতা পাঠ করতে গিয়ে নাজেহাল হয়েছেন কবি মোহন রায়হান। বৃহস্পতিবার বিকেলে বাংলা একাডেমির কবি শামসুর রাহমান সেমিনার কক্ষে কবিতা পাঠের মাঝে তাঁর মাইক্রোফোন কেড়ে নেন এনসিপির শ্রম সংগঠন ‘শ্রমিক শক্তির’ কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক আহমেদ ইসহাক। ‘আওয়ামী লীগের দালাল’ আখ্যা দিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে স্লোগানও দেওয়া হয়। ঘটনার একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।

‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে জুলাই নিয়ে লেখা স্বরচিত কবিতা পাঠ করছিলেন জাতীয় কবিতা পরিষদের সভাপতি মোহন রায়হান। ভিডিওতে দেখা যায়, মাইক কেড়ে নিয়ে ইসহাক বলেন, ‘আজকে থেকে এইখানে এই মোহন রায়হান আওয়ামী লীগের দালালকে বাংলা একাডেমিতে আমরা নিষিদ্ধ ঘোষণা করলাম।’ এরপর তিনি ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ ও ‘আওয়ামী লীগের দালালেরা, হুঁশিয়ার সাবধান’ স্লোগান দেন। এ সময় মোহন রায়হান প্রতিবাদ করে বলেন, ‘কবিতার শেষ শুনতে হবে, এটা আওয়ামী লীগের কবিতা নয়, কবিতার শেষ শুনতে হবে।’

ঘটনার সময় মঞ্চে সভাপ্রধান হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম। পরে তাঁর হস্তক্ষেপে মোহন রায়হান পুরো কবিতা পাঠ করেন বলে দাবি করেন নিজেকে কবি হিসেবেও পরিচয় দেওয়া ইসহাক। ঘটনার বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে ইসহাক অনুষ্ঠানে মোহন রায়হানকে ‘অবাঞ্ছিত ঘোষণা’ করার কথা স্বীকার করেন।

এর আগে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে বাংলামোটরে বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের একটি অনুষ্ঠানেও বাধা দেওয়ার ঘটনা ঘটেছিল। স্রোত আবৃত্তি সংসদের ‘রবীন্দ্র স্মরণ দ্রোহে, জাগরণে রবীন্দ্রনাথ’ শিরোনামের সেই অনুষ্ঠানও বন্ধ হয়ে যায় ইসহাকসহ কয়েকজনের বাধায়।

হট্টগোলের বিষয়ে মোহন রায়হান বলেন, ‘‘যে কবিতাটি আমি পাঠ করেছি, তা মূলত জুলাই আন্দোলনের পক্ষে এবং জুলাই নিয়ে যারা ব্যবসা করছে তাদের বিরুদ্ধেই লেখা। একটি পক্ষ কবিতার আসল বক্তব্য তুলে না ধরে এটিকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করছে। ‘জুলাই বিরোধী কবিতা’ বলে অপপ্রচার চালাচ্ছে। আমার কবিতার শেষ বক্তব্যই ছিল জুলাই কখনো পরাজিত হতে পারে না।’’ নিজেকে জুলাই আন্দোলনের ‘রাজপথের যোদ্ধা’ দাবি করে তিনি আরও বলেন, ‘কিন্তু জুলাই আন্দোলনকে পুঁজি করে যারা ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধকে প্রতিপক্ষ হিসেবে দাঁড় করাতে চায়, আমরা তা মেনে নেব না। মুক্তিযুদ্ধে যেমন আমাদের কোনো আপস নেই, ঠিক তেমনি জুলাই আন্দোলন বা মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে যারা রাজনীতি বা ব্যবসা করতে চায়, তাদের সঙ্গেও আমাদের কোনো আপস হতে পারে না।’

বাংলা একাডেমির ঘটনা তুলে ধরে মোহন রায়হান বলেন, ‘কবিতায় যখন ১৯৭১ সালের পরাজিত শক্তির নতুন মুখে ফিরে আসার চক্রান্তের কথা তুলে ধরা হয়, তখনই জামায়াত-শিবির সমর্থিত একটি গোষ্ঠী বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে কবিতা পাঠে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে। তবে আমি তাদের মুখোমুখি হয়ে বক্তব্য প্রদান ও কবিতা পাঠ শেষ করেই মঞ্চ ছেড়েছি। আমরা এই দেশে জন্ম নিয়েছি। ১৯৭১ তার নিজের মর্যাদার জায়গায় থাকবে এবং ২০২৪ থাকবে তার নিজের জায়গায়। জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা ও শহীদদের স্বপ্ন এখনো বাস্তবায়ন হয়নি, সে কথা বলা কখনোই জুলাইয়ের বিরোধিতা হতে পারে না।’

মোহন রায়হানকে শারীরিকভাবে হেনস্তার অভিযোগ প্রসঙ্গে ইসহাকের দাবি, ‘‘না না একদমই না। ভিডিওটা স্পষ্ট দেখা যাবে যে আমি যখন মঞ্চে উঠে উনাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করি, তখন উনি আমার পাশেই দাঁড়িয়ে ছিলেন এবং আমার তরফ থেকে উনার বা আমাদের তরফ থেকে উনাকে শারীরিক কোনো হেনস্তা করা অথবা ধরেন ‘আপনি এখান থেকে বের হয়ে যান’, মানে ‘বের’ করে দেওয়ার মতো কোনো ঘটনা আসলে ঘটেনি।’’

বাংলা একাডেমির বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এই অনুষ্ঠানে প্রায় ৯০ জন কবি স্বরচিত কবিতা পাঠ করেন। সভাপ্রধানের দায়িত্ব পালন করেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম। তাঁর মতে, এ ধরনের কবিতা পাঠের আয়োজন জুলাই আন্দোলন নিয়ে বহুমাত্রিক আলোচনা ও মূল্যায়নের ক্ষেত্র তৈরি করবে।

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ