Views Bangladesh Logo

প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকেই বাংলা একাডেমি পুরস্কার নিতে চান মোহন রায়হান

কবি মোহন রায়হান জানিয়েছেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বৃহত্তর স্বার্থ বিবেচনায় তিনি বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার গ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে তিনি চান, মর্যাদাপূর্ণ প্রক্রিয়ায় প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকেই এই পুরস্কার গ্রহণ করতে।

রোববার বেলা পৌনে ১২টায় জাতীয় প্রেস ক্লাব–এ আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান। তিনি বলেন, নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান–এর সিদ্ধান্তকে সম্মান জানিয়ে তিনি পুরস্কার গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

মোহন রায়হান বলেন, ‘আমি জানি এই সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক থাকবে। তবুও আমি বিশ্বাস করি—বিভাজনের চেয়ে ঐক্য, প্রতিহিংসার চেয়ে প্রজ্ঞা এবং অপমানের চেয়ে মর্যাদা বেছে নেওয়াই আমাদের কর্তব্য।’

তিনি জানান, পুরস্কারের অর্থ তিনি ব্যক্তিগতভাবে গ্রহণ করবেন না। সেই অর্থ কোনো অসচ্ছল কবি, লেখক বা সাংস্কৃতিক কর্মীর কল্যাণে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারকে ঘিরে একটি অনভিপ্রেত ও বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল।’ তিনি দাবি করেন, তিনি কখনো এই পুরস্কারের প্রত্যাশা করেননি কিংবা কোনো তদবিরও করেননি; বরং বাংলা একাডেমি স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে তাকে মনোনীত করেছিল।

তবে পুরস্কারের তালিকায় নাম ঘোষণার পর একটি সংগঠিত গোষ্ঠী তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার শুরু করে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তার কথা অনুযায়ী, সামাজিক মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগ ছড়ানো হয়। এমনকি ২২ জন লেখক, কবি ও সাংবাদিকের নামে প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে একটি বিবৃতি ছড়ানো হয়, যাদের অনেকেই পরে ব্যক্তিগতভাবে তাকে জানিয়েছেন যে তারা সে বিষয়ে কিছুই জানতেন না।

মোহন রায়হান জানান, পুরস্কার দেওয়ার আগের দিন পর্যন্ত সব আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতি সম্পন্ন ছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে ৪১ বছর আগে লেখা একটি কবিতাকে অজুহাত করে তার পুরস্কার স্থগিত করা হয়। তিনি বলেন, ‘আমি সেখানে উপস্থিত ছিলাম, অথচ অন্যদের ডাকা হলেও আমাকে আর ডাকা হয়নি। এটি শুধু ব্যক্তিগত অপমান নয়, মুক্তচিন্তার প্রতিও অবমাননা।’

পরে বিষয়টি সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ পেলে দেশ-বিদেশে প্রতিক্রিয়া তৈরি হয় এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমেও তা গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশিত হয় বলে জানান তিনি।

এরপর সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, প্রধানমন্ত্রীর সম্মতিক্রমে আগামী ২ মার্চ তাকে পুরস্কার দেওয়া হবে। এ পরিস্থিতিতে জাতীয় কবিতা পরিষদ–এর কেন্দ্রীয় কমিটির সভা আহ্বান করা হয়।

মোহন রায়হান বলেন, ‘কমিটির সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য পুরস্কার গ্রহণের পক্ষে মত দেন। তাদের যুক্তি ছিল, ষড়যন্ত্রের কাছে নতি স্বীকার করা মানে অপশক্তিকে জয়ী হতে দেওয়া। যদিও কেউ কেউ অপমানের প্রতিবাদে পুরস্কার বর্জনের পক্ষেও মত দেন।’

তিনি বলেন, ‘আমি কোনো পদক বা অর্থের কাঙাল নই। জীবনের সায়াহ্নে এসে সামান্য স্বীকৃতি ও সম্মানের প্রত্যাশাই আমাকে সেখানে নিয়ে গিয়েছিল।’

সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, ‘রাষ্ট্র পুনর্গঠনের প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে তাদের মতবিনিময় হয়েছে এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গেও দুই দফা আলোচনা হয়েছে। সে সময় তারা কলম ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার কথা তুলে ধরেন।’

মোহন রায়হান জানান, ভবিষ্যতে বিতর্ক এড়াতে পুরস্কার প্রদানের নীতিমালা সংস্কারেরও দাবি জানিয়েছেন তিনি। তার মতে, স্বচ্ছ, দলনিরপেক্ষ, বিশেষজ্ঞনির্ভর ও সর্বজনগ্রাহ্য প্রক্রিয়া চালু করা হলে এ ধরনের বিতর্ক আর তৈরি হবে না।

প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকেই পুরস্কার গ্রহণের ইচ্ছা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রয়োজনে দিন পরিবর্তন করা হলেও যেন প্রক্রিয়াটি মর্যাদাপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়।’

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ