সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর অফিস ভবন সৌরবিদ্যুতে চলে: শামা ওবায়েদ
সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী যে ভবনে দাপ্তরিক কাজ করেন, সেটি শতভাগ সৌরবিদ্যুতে পরিচালিত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। তিনি বলেন, সরকারি বিভিন্ন দপ্তরেও সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানোর চেষ্টা করছে সরকার।
শনিবার রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে সেন্টার ফর এনআরবি আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
শামা ওবায়েদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী সৌরবিদ্যুতের বিষয়ে অত্যন্ত গুরুত্ব দিচ্ছেন। সরকারি দপ্তরগুলোতে যতটা সম্ভব সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে চীন, জাপানসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আলোচনা চলছে।
জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, একটি মাত্র উৎসের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা অর্থনীতির ওপর বড় চাপ তৈরি করতে পারে—সাম্প্রতিক যুদ্ধগুলো তা দেখিয়েছে। তাই জ্বালানির উৎসে বৈচিত্র্য আনার চেষ্টা করছে সরকার। এ ক্ষেত্রে আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের সম্ভাব্য জ্বালানি উৎস নিয়েও কাজ চলছে। পাশাপাশি দেশে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠার পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবারই প্রথম জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে অংশ নেবেন। ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতিকে সামনে রেখে সেখানে দেশের জাতীয় স্বার্থ, অর্থনৈতিক সম্ভাবনা ও উন্নয়নের বিষয়গুলো তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হবে। একই সময়ে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করবেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।
শামা ওবায়েদ বলেন, সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার অর্থনৈতিক কূটনীতি। ভঙ্গুর অর্থনীতি থেকে দেশকে একটি শক্তিশালী অবস্থানে নিতে সময় লাগবে। ব্যাংকিং খাতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং বিদেশি ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিনিয়োগে উৎসাহিত করতে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির কাজ চলছে।
অবৈধ অভিবাসনকে বাংলাদেশের ভাবমূর্তির জন্য বড় বাধা হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বৈধভাবে বিদেশে যাওয়া কর্মীদের সম্মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে দালালদের মাধ্যমে ইউরোপে যাওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে অনেক বাংলাদেশি প্রাণ হারাচ্ছেন। এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় যৌথভাবে কাজ করছে। সরকার দক্ষ কর্মী বিদেশে পাঠাতে চায়।
বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিমানবন্দর ও ভিসা ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ব্যবসায়ী, পর্যটক ও কর্মীদের ভিসা সহজ করতে নীতিগত কিছু পরিবর্তন ইতোমধ্যে মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত হয়েছে। এসব উদ্যোগের লক্ষ্য হলো বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য বাংলাদেশকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলা।
মতামত দিন