Views Bangladesh Logo

প্রবীণদের আর্থিক নিরাপত্তা ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিতের আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

প্রবীণ নাগরিকদের আর্থিক নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, বয়স্ক ভাতা সম্প্রসারণের পাশাপাশি ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে আর্থিক সহায়তা, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার পরিধি বাড়ানো এবং সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী আরও শক্তিশালী করার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি সরকার ২০২৬ সালের মার্চে চালু করেছে।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস ২০২৬ উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এবারের দিবসের প্রতিপাদ্য ‘দীর্ঘায়ুর যুগ: দীর্ঘ জীবন নিশ্চিত করতে ব্যবস্থাপনায় নতুন ভাবনা’।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্যসচেতনতা বৃদ্ধি এবং চিকিৎসাবিজ্ঞানের অগ্রগতির কারণে বিশ্বজুড়ে মানুষের গড় আয়ু বাড়ছে। দীর্ঘায়ু একদিকে যেমন নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে, অন্যদিকে বয়স্ক মানুষের দীর্ঘ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক সুরক্ষা এবং পারিবারিক সহায়তার ব্যবস্থাগুলোকে সময়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার প্রয়োজনীয়তাও তৈরি করছে।

তিনি বলেন, প্রবীণদের স্বার্থ রক্ষায় সরকার সচেতন। একটি কল্যাণমুখী ও মানবিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রবীণ নাগরিকদের সামাজিক নিরাপত্তা, আর্থিক সুরক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং সম্মানজনক জীবন নিশ্চিত করতে বহুমুখী কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

তারেক রহমান বলেন, জীবনচক্রের প্রতিটি পর্যায়ে প্রয়োজনীয় সহায়তার পাশাপাশি প্রবীণ বয়সে নিরাপদ ও সম্মানজনক জীবনযাপনের সুযোগ তৈরিতে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ জন্য বয়স্ক ভাতা সম্প্রসারণ এবং সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিকে আরও কার্যকর ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সামাজিক সুরক্ষা জোরদারে সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। প্রবীণদের অবহেলার পরিবর্তে তাঁদের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করা, সামাজিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত রাখা এবং সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থার আওতায় আনার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

প্রবীণদের আর্থিক নিরাপত্তার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বয়স্ক ভাতার পরিমাণ ও উপকারভোগীর সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে সরকারের নির্বাচনি অঙ্গীকার ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে আর্থিক সহায়তা, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার সম্প্রসারণ এবং সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী আরও শক্তিশালী করার কার্যক্রম চলছে।

প্রবীণদের পরিবার ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাঁদের ত্যাগ, অভিজ্ঞতা ও প্রজ্ঞার ওপর ভর করেই বর্তমান বাংলাদেশ গড়ে উঠেছে। তাই একটি কল্যাণমূলক, ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক রাষ্ট্র গঠনে প্রবীণদের প্রতি যত্নশীল ও সম্মানজনক দৃষ্টিভঙ্গি থাকা জরুরি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তরে প্রবীণদের প্রতি সম্মান, সহানুভূতি ও দায়িত্বশীলতার চর্চা অব্যাহত রাখতে হবে। তাঁদের স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক নিরাপত্তা, আর্থিক স্থিতিশীলতা এবং সমাজে সক্রিয় থাকার সুযোগ নিশ্চিত করতে জীবনচক্রভিত্তিক সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও সুসংহত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, প্রবীণ নাগরিকদের স্বার্থ রক্ষায় সরকার সম্ভাব্য সব ধরনের পদক্ষেপ নেবে। একই সঙ্গে ধর্মীয়, সামাজিক ও পারিবারিক মূল্যবোধ যত বেশি সমুন্নত থাকবে, সমাজে প্রবীণদের যত্ন, সম্মান ও মর্যাদাও তত বেশি সুরক্ষিত থাকবে বলে তিনি মনে করেন।

আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস উপলক্ষে দেশের সব প্রবীণ নাগরিকের প্রতি শ্রদ্ধা ও শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এমন একটি কল্যাণমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করাই সরকারের লক্ষ্য, যেখানে তরুণ কিংবা প্রবীণ প্রতিটি মানুষ নিজের সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে মর্যাদাপূর্ণ ও পরিপূর্ণ জীবনযাপন করতে পারেন। তিনি ৩৬তম আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস ২০২৬-এর সার্বিক সফলতা কামনা করেন।

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ