Views Bangladesh Logo

বোয়িংয়ের উড়োজাহাজ কেনার কারণ জানালেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা

যুক্তরাষ্ট্রের উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের কাছ থেকে ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে এর কারণ ব্যাখ্যা করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।

তিনি বলেছেন, দীর্ঘদিন ধরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহরে বোয়িংয়ের উড়োজাহাজ থাকায় এ ধরনের উড়োজাহাজ পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় জনবল, কারিগরি সক্ষমতা ও সহায়ক অবকাঠামো আগে থেকেই প্রস্তুত রয়েছে। এ কারণেই বোয়িংয়ের প্রতি বিমানের কিছুটা বেশি আগ্রহ রয়েছে।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কাজের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

জাহেদ উর রহমান বলেন, যেহেতু দীর্ঘদিন থেকে আমরা বোয়িং অপারেট করি, বোয়িংয়ের যে পুরো সাপোর্টিং স্টাফ, সেটা আমাদের অনেকটা প্রস্তুত আছে, প্রশিক্ষিত আছে; সেই কারণেই আমাদের বোয়িংয়ের প্রতি কিছুটা বেশি চুজ করার প্রবণতা আছে।

গত ৩০ এপ্রিল বোয়িংয়ের কাছ থেকে ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার বিষয়ে মার্কিন প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে চুক্তি করে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। চুক্তি অনুযায়ী এসব উড়োজাহাজ কিনতে ব্যয় হবে ৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার, বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪৫ হাজার ৪০৮ কোটি টাকা। ১ ডলার ১২২ টাকা ৭৩ পয়সা ধরে এ হিসাব করা হয়েছে।

চুক্তির আওতায় উড়োজাহাজগুলো ২০৩১ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে ধাপে ধাপে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কাছে সরবরাহ করবে বোয়িং।

গত ৩১ আগস্ট বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত জানিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ১৪টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর পাশাপাশি আরও উড়োজাহাজ লিজ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান তিনি। একই সঙ্গে ইউরোপের উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এয়ারবাসের কাছ থেকেও উড়োজাহাজ কেনার কথা জানিয়েছিলেন মন্ত্রী।

বোয়িংয়ের এই বড় অঙ্কের কেনাকাটার কারণে দেশের অর্থনীতিতে চাপ তৈরি হবে কি না—সংবাদ সম্মেলনে এমন প্রশ্ন করা হয়।

জবাবে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, সরকার যখন দায়িত্ব নেয়, তখন দেশের অর্থনীতি কঠিন অবস্থায় ছিল। তবে বোয়িংয়ের উড়োজাহাজ কেনার অর্থ একসঙ্গে পরিশোধ করতে হবে না। দীর্ঘ সময় ধরে ধাপে ধাপে অর্থ পরিশোধ করা হবে এবং উড়োজাহাজগুলোও তাৎক্ষণিকভাবে হাতে আসছে না।

তিনি বলেন, সরকার খুবই খারাপ অর্থনীতি হাতে পেয়েছে, এটা ভুল না। এটা হলো এক। দুই হচ্ছে, যে বোয়িং কেনার কথা হচ্ছে, এই বোয়িংগুলোর পেমেন্ট এখন থেকে ধাপে ধাপে অনেক দিন পর্যন্ত এই পেমেন্ট হতে থাকবে এবং এই বোয়িংগুলো হাতে পাওয়া আমাদের জন্য লম্বা সময়ের ব্যাপার।

বোয়িংয়ের উড়োজাহাজ কেনার কারণে তাৎক্ষণিকভাবে অর্থনীতিতে বড় কোনো চাপ তৈরি হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

জাহেদ উর রহমান বলেন, আমরা কেউ যদি মনে করছি যে, আমাকে এক্ষুণি বা খুব অল্প সময়ের মধ্যে অনেক টাকা দিয়ে দিতে হবে, ব্যাপারটা মোটেই তা না।

তিনি বলেন, একটি রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক সংকট থাকলেও প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো একেবারে বন্ধ করে রাখা যায় না। রাষ্ট্রকে তার প্রয়োজন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিতে হয়। তাই নতুন বোয়িং উড়োজাহাজের অর্ডারের কারণে তাৎক্ষণিক কোনো অর্থনৈতিক প্রভাব পড়বে না।

অর্থনৈতিক সংকট দ্রুত কাটিয়ে ওঠার আশাবাদ জানিয়ে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, সরকার মনে করছে খুব বেশি সময় লাগবে না এবং সংকট কাটিয়ে উঠতে পারলে প্রয়োজনীয় উড়োজাহাজ কেনার কারণে অর্থনীতির ওপর বড় ধরনের চাপ তৈরি হবে না।

এদিকে বোয়িংয়ের পাশাপাশি এয়ারবাসের কাছ থেকেও উড়োজাহাজ কেনার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। রোববার বাংলাদেশে নিযুক্ত ইইউ রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার বলেন, এয়ারবাসের একটি প্রতিযোগিতামূলক প্রস্তাব রয়েছে এবং সেটিকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত। এয়ারবাস ও বিমানের মধ্যে দ্রুত আলোচনা শেষ করার প্রত্যাশাও জানান তিনি।

এ বিষয়ে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, প্রয়োজন অনুযায়ী এয়ারবাস থেকেও উড়োজাহাজ কেনা হবে। বোয়িংকে বেছে নেওয়ার অর্থ এই নয় যে এয়ারবাসকে বাদ দেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ প্রয়োজনে এয়ারবাসও কিনবে—এই ধরনের আলাপ আমাদের মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে। বোয়িংয়ের পাশাপাশি এয়ারবাসকেও আসলে পেছনে ফেলার মতো কোনো কথাবার্তা নেই।

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ