চট্টগ্রামে নেতাকর্মীদের ‘নতুন বাংলাদেশ’ বিনির্মাণের নির্দেশনা দিলেন প্রধানমন্ত্রী
দেশকে নতুন করে গড়ে তোলা এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণে দলীয় নেতাকর্মীদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থেকে জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন করাই বিএনপির প্রধান কর্তব্য। এ জন্য জনকল্যাণকে অগ্রাধিকার দিয়ে নেতাকর্মীদের কাজ করতে হবে।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে চট্টগ্রামের রেডিসন ব্লু হোটেলে বিএনপির সাংগঠনিক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী। সভায় চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপি এবং দলটির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের পাঁচ শতাধিক নেতাকর্মী অংশ নেন।
তারেক রহমান বলেন, বিএনপি বিরোধী দলে থাকার সময় গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার কথা বলেছে। এখন রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকায় জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নে আন্তরিক হতে হবে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আইনশৃঙ্খলা ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে।
দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সাধারণ মানুষের চাহিদা, প্রত্যাশা ও সমস্যাগুলো বুঝতে হবে। মানুষের কথা শুনে সমাধানের উদ্যোগ নিতে হবে। নেতাকর্মীদের আচরণ এমন হওয়া প্রয়োজন, যাতে সাধারণ মানুষ তাঁদের কাছ থেকে সহযোগিতা ও সেবা পান। ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে জনগণের কল্যাণে কাজ করতে হবে। এমন কোনো কর্মকাণ্ডে জড়ানো যাবে না, যাতে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয় বা জনগণের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।
এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নে নেতাকর্মীদের দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, অন্যায় ও অপরাধের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে হবে। তবে কোনো অবস্থাতেই আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া যাবে না। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করতে হবে। জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তাঁদের সমস্যা সমাধানে সহযোগিতা করা দলীয় নেতাকর্মীদের দায়িত্ব।
বিএনপির দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সংগ্রামের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, গত ১৭ বছরে দলের নেতাকর্মীরা নানা প্রতিকূলতা ও চাপের মধ্যেও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে গেছেন। তাঁদের ত্যাগ ও অবদান যথাযথভাবে মূল্যায়ন করতে হবে। অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতে আরও দায়িত্বশীলভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
আসন্ন স্থানীয় নির্বাচন সামনে রেখে নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন বিএনপি চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, যেকোনো ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচারের বিষয়ে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার করার পাশাপাশি দলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। পরিস্থিতি ও বাস্তবতা বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
স্থানীয় পর্যায়ে সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট নেতাদের মতামত ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার নির্দেশনা দিয়ে তারেক রহমান বলেন, কোনো এলাকার সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক কিংবা দায়িত্বশীল নেতাদের পাশ কাটিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। আলোচনা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। দলের মধ্যে মতপার্থক্য থাকলে তা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে হবে।
দলীয় ঐক্য বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নিজেদের মধ্যে বিভেদ তৈরি হলে সাংগঠনিক কার্যক্রম ব্যাহত হবে। এতে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ সুযোগ নিতে পারে। তাই নেতাকর্মীদের একসঙ্গে বসে নিজেদের সমস্যা চিহ্নিত করতে হবে এবং গ্রহণযোগ্য সমাধানে পৌঁছাতে হবে।
চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ও চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহর সভাপতিত্বে সভায় সঞ্চালনা করেন নগর বিএনপির সদস্যসচিব নাজিমুর রহমান। এতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ, অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীনসহ চট্টগ্রামের সংসদ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রাম নগরের জেএম সেন হলের দুর্গাপূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন। সেখান থেকে রাত সাড়ে ৯টার দিকে রেডিসন ব্লু হোটেলে গিয়ে সাংগঠনিক সভায় যোগ দেন তিনি।
মতামত দিন