রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দিলেন প্রধানমন্ত্রীসহ শীর্ষ নেতারা
দীর্ঘ প্রায় ৩৫ বছর পর রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুর ২টায় জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে ভোট দেওয়া শুরু করেন সংসদ সদস্যরা। দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটার হিসেবে রয়েছেন ৩৪৯ জন সংসদ সদস্য।
ভোট শুরুর পর রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনরত মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ, ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভোট দেন। এ ছাড়া বিএনপির রাষ্ট্রপতি প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানও তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।
এবারের নির্বাচনে রাষ্ট্রপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিএনপি মনোনীত মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল অলি আহমদ। ভোটগ্রহণ বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলার কথা রয়েছে। নির্বাচনী কর্তা হিসেবে পুরো প্রক্রিয়া পরিচালনা করছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।
১৯৯১ সালে সংসদীয় সরকারব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তনের পর সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন শুরু হয়। তবে এরপর অনুষ্ঠিত সাতটি নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীর বিপরীতে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় ভোটের প্রয়োজন হয়নি। এবার অলি আহমদ প্রার্থী হওয়ায় দীর্ঘ সময় পর রাষ্ট্রপতি পদে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্য দিয়ে ভোট হচ্ছে।
‘রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১’ অনুযায়ী, সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন। ভোট গণনা শেষে সর্বোচ্চ ভোট পাওয়া প্রার্থীকে বিজয়ী ঘোষণা করা হবে। সংবিধানের ৫০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি পাঁচ বছরের জন্য দায়িত্ব পালন করবেন।
তবে এবারের নির্বাচনের একটি ব্যতিক্রম হলো, রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হলেও সংসদ সদস্য না হওয়ায় অলি আহমদ নিজে ভোট দিতে পারছেন না। অন্যদিকে সংসদ সদস্য হওয়ায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পেয়েছেন। ভোটগ্রহণ শেষে সংসদ কক্ষেই ভোট গণনা ও ফল ঘোষণা করা হবে।
মতামত দিন