সিলেট সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী, আশায় বুক বাঁধছেন সিলেটবাসী
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমবারের মতো আগামীকাল শনিবার (২ মে) সিলেট সফরে যাচ্ছেন তারেক রহমান। সফরে তিনি শিশু ও কিশোরদের ক্রীড়া প্রতিভা বিকাশে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন।
এ ছাড়া সিলেটে একাধিক উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী। এতে যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন, জলাবদ্ধতা নিরসনসহ দীর্ঘদিনের ‘উন্নয়ন বঞ্চনা’ কমবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।
বিশেষ করে ঢাকা-সিলেট ছয় লেন মহাসড়কের কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়া, রেলপথের উন্নয়ন ও ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানো, ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্প্রসারণ এবং একটি প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়েছেন সিলেটবাসী।
প্রধানমন্ত্রীর এই সফর ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় বিএনপি ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে দফায় দফায় বৈঠকের মাধ্যমে সার্বিক প্রস্তুতি চূড়ান্ত করা হয়েছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
সফরসূচি অনুযায়ী, শনিবার সকাল ১০টায় বিমানযোগে ঢাকা থেকে সিলেটে পৌঁছাবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে পৌঁছে তিনি প্রথমেই হজরত শাহজালাল (রহ.) মাজার জিয়ারত করবেন।
এরপর বেলা ১১টায় নগরের চাঁদনিঘাট এলাকায় জলাবদ্ধতা নিরসনে সিলেট সিটি করপোরেশন-এর একটি প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন এবং সুধী সমাবেশে অংশ নেবেন।
দুপুর ১২টায় সিলেট সদর উপজেলার কান্দিগাঁও ইউনিয়নে বাসিয়া খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন। বিকেল ৩টায় সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন তিনি।
সর্বশেষ বিকেল ৫টায় নগরের শাহী ঈদগাহ এলাকায় সিলেট জেলা শিল্পকলা একাডেমি-এ দলীয় সভায় যোগ দেবেন। রাতে তিনি ঢাকায় ফিরে যাবেন।
সফরকে ঘিরে নগরের বিভিন্ন সড়ক সংস্কার, পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ফেস্টুন টানানো হয়েছে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
এদিকে সফর সামনে রেখে বিভিন্ন সংগঠন উন্নয়ন সংক্রান্ত দাবি উত্থাপন করেছে। সম্প্রতি বস্ত্র, পাট, শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির-এর কাছে স্মারকলিপি দিয়ে ২৫ দফা দাবি জানিয়েছে সিলেট বিভাগ গণদাবি ফোরাম।
গণদাবি ফোরামের সভাপতি চৌধুরী আতাউর রহমান আজাদ জানিয়েছেন, তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে সিলেটকে ‘আধ্যাত্মিক ও অর্থনৈতিক রাজধানী’ ঘোষণা, বিভাগকে পর্যটন অঞ্চল হিসেবে গেজেট প্রকাশ এবং ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উন্নীত করা।
এ ছাড়া সিলেট-ঢাকা ও সিলেট-চট্টগ্রাম রেলপথ আধুনিকায়ন, সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীতকরণ, মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে বিমানবাহিনীর ঘাঁটি স্থাপন, সিলেটে প্রকৌশল ও পর্যটন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা এবং হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ পুনর্বহালের দাবিও জানানো হয়েছে।
পাশাপাশি নদ-নদী ও খাল খনন, তেল সংরক্ষণাগার স্থাপন এবং বিরতিহীন আধুনিক ট্রেন চালুর বিষয়টিও দাবির তালিকায় রয়েছে। এই সফরের মাধ্যমে সিলেটের দীর্ঘদিনের উন্নয়ন বঞ্চনা দূর হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে গত ২১ জানুয়ারি সিলেট সফর করেছিলেন তারেক রহমান। সেদিন নগরের আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য দেন তিনি।
এবারের সফরে বড় কোনো জনসভা না থাকলেও বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা দেখা গেছে। মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে উৎসাহ তৈরি হয়েছে।
সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে সব প্রস্তুতি শেষ, এখন অপেক্ষা শুধু তার আগমনের।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে