জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে বিশ্বনেতাদের সামনে পরিকল্পনা তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেশের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও অবস্থান বিশ্বনেতাদের সামনে তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। নিউইয়র্কে অবস্থানকালে তিনি একাধিক দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।
মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে পৌঁছানোর পর এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন মাহদী আমিন। তিনি জানান, নিউইয়র্কে প্রধানমন্ত্রীর চার কর্মদিবসে বিভিন্ন দেশের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক হবে। এসব আলোচনায় বাংলাদেশের স্বার্থ সুরক্ষা, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক আরও জোরদার করা, জনগণের অধিকার এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে।
মাহদী আমিন প্রধানমন্ত্রীর এবারের সফরকে ঐতিহাসিক হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় পর জনগণের ভোটে নির্বাচিত একটি প্রতিনিধিত্বমূলক সরকারের প্রধান হিসেবে তারেক রহমান জাতিসংঘে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এই সফরে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রূপরেখা, জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষা, জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিয়ে বিশ্বনেতাদের সামনে দেশের অবস্থান তুলে ধরা হবে।
তিনি বলেন, এর আগে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া জাতিসংঘে বাংলাদেশের অবস্থান, পরিকল্পনা ও স্বার্থের কথা তুলে ধরেছেন। সেই ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও দেশের স্বার্থ ও মানুষের প্রত্যাশার কথা বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরবেন।
প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী তুর্কি এয়ারলাইনসের একটি বিমান স্থানীয় সময় সোমবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটে নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। তার সঙ্গে রয়েছেন সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানসহ সফরসঙ্গীরা। বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন জুবাইদা খান এবং যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারেক মো. আরিফুল ইসলাম। পরে মোটর শোভাযাত্রা করে তাকে হায়াত গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল নিউইয়র্ক হোটেলে নেওয়া হয়।
মাহদী আমিন জানান, আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। তার ভাষণেও বাংলাদেশের স্বার্থ, জনগণের অধিকার ও দেশের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র বলেন, এবারের সফর ছয় দিনের। এর মধ্যে যাতায়াতে দুই দিন এবং যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানের চার দিন। সফরে আনুষ্ঠানিকভাবে ৩৫ জন রয়েছেন। এর বাইরে নিরাপত্তা, গণমাধ্যম ও ব্যক্তিগত দায়িত্ব পালনের জন্য প্রয়োজনীয় কর্মকর্তারা রয়েছেন।
তিনি জানান, আনুষ্ঠানিক প্রতিনিধিদলে প্রধানমন্ত্রী ও তার সহধর্মিণীর পাশাপাশি মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপদেষ্টা ও বিশেষ সহকারী পদে থাকা ১৫ জন রয়েছেন। এছাড়া পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি, জোটের শরিক দলগুলোর প্রতিনিধি, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব, অতিরিক্ত প্রেস সচিব, পররাষ্ট্র সচিব এবং সংশ্লিষ্ট মিশনের কর্মকর্তারাও রয়েছেন।
মাহদী আমিন বলেন, এই প্রতিনিধিদলের মূল উদ্দেশ্য হলো বিশ্বনেতাদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় বৈঠকগুলোতে বাংলাদেশের সার্বভৌম স্বার্থ, সাধারণ মানুষের অধিকার এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের বিষয়গুলো যথাযথভাবে তুলে ধরা।
প্রধানমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি শুরু হবে বুধবার স্থানীয় সময় সকাল ৮টায় জাতিসংঘ মহাসচিব আয়োজিত স্বাগত নাশতা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে। এরপর সকাল ৯টায় তিনি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের উদ্বোধনী অধিবেশনে যোগ দেবেন। সফরজুড়ে প্রধানমন্ত্রীর বিভিন্ন কূটনৈতিক বৈঠকের সারসংক্ষেপ নিয়মিত গণমাধ্যমকে জানানো হবে বলে জানিয়েছেন মাহদী আমিন।
মতামত দিন