প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর আরও দ্রুত হওয়া উচিত: দীনেশ ত্রিবেদী
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর ‘আরও দ্রুত হওয়া উচিত’ বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী।
রোববার (১৬ আগস্ট) রাতে রাজধানীর বারিধারায় আয়োজিত এক নৈশভোজে বক্তব্য দিতে গিয়ে দীনেশ ত্রিবেদী বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ভৌগোলিকভাবে দুই দেশ পাশাপাশি অবস্থান করলেও তাদের সম্পর্ক শুধু সীমান্তের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। দুই দেশের মানুষের মধ্যে দীর্ঘদিনের যোগাযোগ ও পারস্পরিক সম্পর্ক রয়েছে। এই ভিত্তিকে কাজে লাগিয়ে তিনি দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের একটি নতুন ও উজ্জ্বল অধ্যায় দেখতে চান।
দুই দেশের মধ্যে থাকা বিভিন্ন বিরোধ ও চ্যালেঞ্জের প্রসঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, গণতান্ত্রিক সমাজে মতপার্থক্য থাকাটাই স্বাভাবিক। বাংলাদেশ ও ভারত দুটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে নিজেদের স্বার্থ ও অবস্থান তুলে ধরবে। তবে অভিন্ন স্বার্থের জায়গাগুলো চিহ্নিত করে আলোচনার মাধ্যমে এগিয়ে যাওয়াই সবচেয়ে কার্যকর পথ বলে মনে করেন তিনি। এর আগে জুলাইয়ের শেষ দিকে তিনি বলেছিলেন, পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে এমন কোনো সমস্যা নেই, যার সমাধান সম্ভব নয়।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে ত্রিবেদী বলেন, নয়াদিল্লি বাংলাদেশের সরকারপ্রধানকে স্বাগত জানানোর অপেক্ষায় রয়েছে। তাঁর মতে, দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী একসঙ্গে বসে সরাসরি আলোচনা করলে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে ইতিবাচক অগ্রগতি সম্ভব। এর আগে ২৯ জুলাইও তিনি জানিয়েছিলেন, তারেক রহমানের ভারত সফর হলে সম্পর্কের বিভিন্ন ক্ষেত্রে গঠনমূলক অগ্রগতি হবে বলে তিনি আশাবাদী।
সম্প্রতি দুই দেশের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগও বেড়েছে। গত ১০ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়নের পাশাপাশি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়টিও আলোচনায় আসে। একই সময়ে বাণিজ্য, জ্বালানি, যোগাযোগ ও অন্যান্য ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।
দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ককে আরও কার্যকর পর্যায়ে নিতে হলে জনগণের মধ্যে যোগাযোগ ও পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানো প্রয়োজন। বাণিজ্য, যোগাযোগ, নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের স্বার্থ রয়েছে উল্লেখ করে তিনি অভিন্ন সমৃদ্ধির লক্ষ্যে একসঙ্গে কাজ করার ওপর গুরুত্ব দেন। তাঁর ভাষায়, দুই দেশের মানুষের জন্য একটি ইতিবাচক ও পারস্পরিক লাভজনক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠাই হওয়া উচিত ভবিষ্যৎ সহযোগিতার মূল লক্ষ্য।
মতামত দিন