Views Bangladesh Logo

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে একান্ত বৈঠকে তারেক রহমান

 VB  Desk

ভিবি ডেস্ক

মালয়েশিয়ায় দুই দিনের সরকারি সফরে গিয়ে দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের কাছ থেকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় উষ্ণ অভ্যর্থনা পেয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

সোমবার (২২ জুন) সকালে পুত্রজায়ায় মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ‘পেরদানা পুত্রা’ ভবনে তাকে লালগালিচা সংবর্ধনা দেওয়া হয়। স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৮টায় কুয়ালালামপুরের শাংগ্রি-লা হোটেল থেকে মোটর শোভাযাত্রায় পুত্রজায়ার উদ্দেশে রওনা হন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার স্ত্রী জোবাইদা রহমান। সকাল ৯টায় তারা পেরদানা পুত্রা ভবনে পৌঁছালে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম এবং তার সহধর্মিণী দাতুক সেরি ড. ওয়ান আজিজাহ ওয়ান ইসমাইল তাদের স্বাগত জানান।

অভ্যর্থনার অংশ হিসেবে মালয়েশিয়ার সশস্ত্র বাহিনীর একটি সুসজ্জিত দল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে গার্ড অব অনার প্রদান করে। এ সময় বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশিত হয়। পরে প্রধানমন্ত্রী গার্ড পরিদর্শন করেন।

আনুষ্ঠানিকতা শেষে দুই দেশের সরকারপ্রধান নিজ নিজ সফরসঙ্গী ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের সঙ্গে একে অপরের পরিচয় করিয়ে দেন। এরপর পরিদর্শন বইতে স্বাক্ষর করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পরে দুই নেতা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পঞ্চম তলায় একান্ত বৈঠকে মিলিত হন। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে পুত্রজায়ার প্রধান সড়কজুড়ে দুই দেশের জাতীয় পতাকা টানানো হয়। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনের মাদানী স্কয়ারেও বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার পতাকা সারিবদ্ধভাবে উত্তোলন করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই তারেক রহমানের প্রথম দ্বিপক্ষীয় বিদেশ সফর। ফলে সফরটিকে বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে দুই দেশই। সরকার ও ব্যবসায়ী মহলের প্রত্যাশা, দীর্ঘদিনের শ্রমবাজারনির্ভর সম্পর্কের গণ্ডি পেরিয়ে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া সহযোগিতা এবার বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি, শিক্ষা, হালাল অর্থনীতি ও প্রযুক্তি খাতে আরও সম্প্রসারিত হবে।

পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম জানিয়েছেন, সফরকালে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে প্রস্তাবিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে টার্মস অব রেফারেন্স (টিওআর) সংক্রান্ত একটি সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি সাংস্কৃতিক সহযোগিতা বিষয়ক আরেকটি সমঝোতা স্মারকও স্বাক্ষরিত হতে পারে।

দুই প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি, শ্রমবাজার সম্প্রসারণ, শিক্ষা, কৃষি, জ্বালানি, হালাল শিল্প এবং সেমিকন্ডাক্টর খাতে সহযোগিতা জোরদারের বিষয় গুরুত্ব পাবে। এছাড়া মালয়েশিয়ায় নতুন বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ, আসিয়ানে বাংলাদেশের সদস্যপদ এবং রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে মালয়েশিয়ার সমর্থনের বিষয়েও আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক অংশীদার মালয়েশিয়া। দেশটি বাংলাদেশের বড় শ্রমবাজারগুলোর একটি হওয়ার পাশাপাশি জ্বালানি, পাম অয়েল, শিল্পের কাঁচামাল ও বিভিন্ন ভোগ্যপণ্যের গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহকারী। অন্যদিকে তৈরি পোশাক, চামড়াজাত পণ্য, সিরামিক, ওষুধ ও কৃষিপণ্যের রপ্তানি সম্ভাবনা থাকলেও দুই দেশের বাণিজ্যে এখনও উল্লেখযোগ্য ভারসাম্যহীনতা রয়েছে।

ব্যবসায়ী নেতাদের মতে, মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির আলোচনা এগোলে বাংলাদেশি পণ্যের বাজার সম্প্রসারণের পাশাপাশি বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর নতুন সুযোগ তৈরি হবে। তাই কূটনৈতিক সম্পর্কের পাঁচ দশকেরও বেশি সময় পর এবারের সফরকে কেবল আনুষ্ঠানিক রাষ্ট্রীয় সফর নয়, বরং ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক অংশীদারত্বকে আরও শক্তিশালী করার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ