কোনোভাবেই সংসদকে ব্যর্থ হতে দেওয়া যাবে না: প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান বলেছেন, জাতীয় সংসদই দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মূল কেন্দ্র, তাই এটিকে কোনোভাবেই ব্যর্থ হতে দেওয়া যাবে না।
তিনি বলেন, সংসদে আলোচনা ও বিতর্ক থাকবে, মতপার্থক্যও থাকবে, তবে শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর সমাপনী আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতার জন্য সংসদীয় গণতন্ত্রের কার্যকারিতা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। কার্যকর সংসদ ছাড়া কোনো দেশই দীর্ঘমেয়াদে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারে না।
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে অতীতের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, দেশে বারবার গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হওয়ায় উন্নয়ন ও অগ্রগতির গতি ব্যাহত হয়েছে।
তিনি বলেন, গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা নষ্ট হলে শুধু রাজনৈতিক কাঠামো নয়, অর্থনীতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং সামাজিক স্থিতিশীলতাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
শিক্ষা ও ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার প্রসঙ্গে তিনি জানান, তিনি দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই পড়াশোনা করেছেন এবং রাজনৈতিক জীবনের শুরু থেকেই বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। বিশেষ করে ১৯৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের সময় শিক্ষাঙ্গনে রাজনৈতিক অস্থিরতা তাকে প্রভাবিত করেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
শিক্ষাঙ্গনের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীদের জন্য একটি নিরাপদ ও সুন্দর পরিবেশ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
তিনি বিদেশের শিক্ষাব্যবস্থার উদাহরণ টেনে বলেন, দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতেও একই ধরনের মানসম্পন্ন পরিবেশ গড়ে তোলার প্রয়োজন রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সংসদীয় দায়িত্ব অত্যন্ত কঠিন ও দায়িত্বশীল একটি কাজ। জনপ্রিয়তা নয়, বরং সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়াই একজন জনপ্রতিনিধির মূল দায়িত্ব। এই চেয়ার তাকে প্রতিনিয়ত মনে করিয়ে দেয় যে এখানে বসে আবেগ নয়, বাস্তবতা ও ভবিষ্যৎ বিবেচনায় সিদ্ধান্ত নিতে হয়।
প্রধানমন্ত্রী দেশের অর্থনৈতিক বাস্তবতাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার একটি বড় ঋণের বোঝা নিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করছে, যা উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। এ অবস্থায় রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং সংসদের কার্যকারিতা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
কৃষি ও পরিবেশগত সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশের ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়া এবং জলাবদ্ধতার সমস্যা এখন গুরুতর রূপ নিয়েছে। এসব সমস্যার সমাধানে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের খাল খনন কর্মসূচির অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে নতুনভাবে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যদিও এর ফল পেতে সময় লাগবে।
শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাজেটের একটি বড় অংশ শিক্ষা খাতে বরাদ্দ দেওয়ার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করতে বিভিন্ন সুবিধা দেওয়ার পাশাপাশি শিক্ষকদের মর্যাদা বৃদ্ধির ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। স্বাস্থ্য খাতে অবকাঠামোর পাশাপাশি চিকিৎসক, সরঞ্জাম ও ওষুধের সরবরাহ নিশ্চিত করার বিষয়েও কাজ চলছে।
তিনি বিরোধী দলের প্রতি সহযোগিতার আহ্বান জানিয়ে বলেন, দেশের উন্নয়নের জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐক্য প্রয়োজন। মতপার্থক্য থাকলেও জাতীয় স্বার্থে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। আমরা একে অপরের পরিপূরক, কেউ একা দেশকে এগিয়ে নিতে পারবে না।
প্রধানমন্ত্রী বেকারত্ব, কৃষকের সমস্যা এবং সাধারণ মানুষের প্রত্যাশার কথাও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, জনগণ এখন শুধু রাজনৈতিক বিতর্ক নয়, বাস্তব সমস্যার সমাধান চায়। তাই সংসদের প্রতিটি সিদ্ধান্ত জনগণের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যেই হওয়া উচিত।
শেষে তিনি সংসদের সকল সদস্য, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, গণমাধ্যম এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টার কারণেই সংসদ কার্যকরভাবে অধিবেশন সম্পন্ন করতে পেরেছে।
তিনি তার বক্তব্যের শেষাংশে বলেন, দেশের জনগণই সব ক্ষমতার উৎস, তাই তাদের আশা-আকাঙ্ক্ষাকে সম্মান জানিয়ে দায়িত্ব পালন করাই সংসদ সদস্যদের মূল কর্তব্য।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে