Views Bangladesh Logo

দেশের মানুষকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কাজ শুরু করেছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

দেশের মানুষকে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নে বর্তমান সরকার ইতোমধ্যে কাজ শুরু করে দিয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সিলেটের চাঁদনীঘাটে জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এক সুধী সমাবেশে ভাষণদানকালে তিনি এ কথা বলেন। শনিবার (২ মে) আয়োজিত এই সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী তাঁর আড়াই মাসের সরকারকে একটি নবজাতক শিশুর সঙ্গে তুলনা করে আগামীর কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের প্রতিটি প্রান্তের নারীদের স্বাবলম্বী করতে আমরা ‘ফ্যামিলি কার্ড’ এবং কৃষক ভাইদের সহায়তা দিতে ‘কৃষক কার্ড’ চালুর কথা বলেছিলাম। আমাদের লক্ষ্য হলো ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্য থেকে দক্ষ ও প্রতিভাবানদের খুঁজে বের করে তাদের গড়ে তুলতে চাই।

তৃণমূল থেকে দক্ষ খেলোয়াড় তুলে আনার পরিকল্পনা সম্পর্কে তারেক রহমান বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সময়ে মেধাবী শিশুদের বিকাশে ‘নতুন কুঁড়ি’ কর্মসূচি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। সেই কর্মসূচির সম্প্রসারিত রূপ হিসেবে আমরা ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ চালু করতে যাচ্ছি।

প্রধানমন্ত্রী জানান, ইতোমধ্যে এই কর্মসূচির আওতায় দেশজুড়ে প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার শিশু তাদের নাম নথিভুক্ত করেছে। প্রাথমিকভাবে সাত থেকে আটটি খেলার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি বিশ্বাস করেন, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই এমন কিছু খেলোয়াড় তৈরি হবে যারা ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে স্বর্ণপদক জয় করে দেশের সুনাম উজ্জ্বল করবে। ক্রিকেট বা নারী ফুটবল দল যেভাবে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের মর্যাদা বাড়িয়েছে, নতুন প্রজন্মও সেভাবেই সম্মান বয়ে আনবে।

তথ্যপ্রযুক্তি খাতের উন্নয়ন প্রসঙ্গে সরকারপ্রধান বলেন, আমাদের অনেক তরুণ ফ্রিল্যান্সিং, ডেটা প্রসেসিং এবং বিভিন্ন আইটি কাজের সঙ্গে যুক্ত। আমরা আইটি পার্কগুলোতে তাঁদের জন্য পর্যাপ্ত সুযোগ তৈরির চেষ্টা করছি, যাতে তাঁদের কাজের পরিধি ও আয় বৃদ্ধি পায়। এছাড়া যারা আইটি খাতে ক্যারিয়ার গড়তে চান কিন্তু সুযোগ পাচ্ছেন না, তাঁদের জন্যও বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দেশের কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে আধুনিকায়ন ও যুগোপযোগী করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যাতে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত জনশক্তি দেশে ও বিদেশে সম্মানজনক কর্মসংস্থানের সুযোগ পায়।

যোগাযোগ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের ওপর গুরুত্বারোপ করে তারেক রহমান বলেন, শুধু রাস্তা বড় করলেই সব সমস্যার সমাধান হবে না। সড়ক সম্প্রসারণের সঙ্গে সঙ্গে যানবাহনের সংখ্যা ও চাপ পাল্লা দিয়ে বাড়ে। এর পরিবর্তে যদি আমরা রেল যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন করতে পারি, তবে সাধারণ মানুষ স্বল্প খরচে যাতায়াত করতে পারবে। একইভাবে ব্যবসায়ীরাও কম খরচে তাদের পণ্য আনা-নেওয়া করতে পারবেন। এ ছাড়াও সারা দেশে রেল নেটওয়ার্ক কীভাবে আরও বিস্তৃত করা যায়, সে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে সরকার। যাতায়াত ও ব্যবসার খরচ কমাতে রেল ব্যবস্থার উন্নয়নই স্থায়ী সমাধান বলে উল্লেখ করেন তিনি।

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ