প্রায় ৫ ঘণ্টা বিলম্বের পর ঢাকার পথে প্রধানমন্ত্রী
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের উড়োজাহাজে কারিগরি ত্রুটির কারণে ৪ ঘণ্টা ৪৪ মিনিট বিলম্বের পর জাপানের টোকিও থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর মধ্য দিয়ে জাপানে তাঁর চার দিনের রাষ্ট্রীয় সফর শেষ হলো।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, প্রকৌশলীরা কারিগরি ত্রুটি মেরামত করার পর স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাত ১০টা ৪৪ মিনিটে নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ছেড়ে যায় উড়োজাহাজটি।
স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টায় ফ্লাইটটির টোকিও ছাড়ার কথা ছিল। তবে সন্ধ্যা ৬টা ১৮ মিনিটের দিকে উড়োজাহাজটি রানওয়ের দিকে এগিয়ে গেলেও উড্ডয়নের আগে থেমে যায়।
প্রায় ১৫ মিনিট পর ক্যাপ্টেন মো. ইমামুল ইসলাম ঘোষণা দেন, কারিগরি সমস্যার কারণে ফ্লাইটটি উড্ডয়ন করতে পারছে না। পরে উড়োজাহাজটি টারমাকে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। দুই প্রকৌশলী ত্রুটি মেরামতের কাজ করার সময় যাত্রীদের উড়োজাহাজ থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়।
স্থানীয় সময় রাত ৮টার দিকে ক্যাপ্টেন জানান, সমস্যাটি মেরামত করতে আরও আড়াই ঘণ্টা সময় লাগবে। পরে রাত ৯টা ৫০ মিনিটের দিকে তিনি জানান, কারিগরি ত্রুটি সারানো হয়েছে এবং শিগগিরই আবার যাত্রীদের উড়োজাহাজে ওঠানো হবে।
উড়োজাহাজটিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, তাঁর স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান এবং সফরসঙ্গী দলের অন্য সদস্যরা ছিলেন।
ফ্লাইট বিলম্বের কারণে যাত্রীদের ভোগান্তির জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন সফরসঙ্গী বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। স্থানীয় সময় রাত ১০টা ১৫ মিনিটের দিকে টোকিও বিমানবন্দরে তিনি বলেন, কারিগরি ত্রুটির কারণে ফ্লাইটে বিলম্ব হয়েছে। সমস্যাটি পুরোপুরি সমাধান করা হয়েছে এবং উড়োজাহাজটি উড্ডয়নের জন্য নিরাপদ।
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে গত ২৬ অক্টোবর চার দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে জাপানে পৌঁছান তারেক রহমান।
সফরকালে টোকিওতে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠক করেন তিনি। বৈঠকে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি, রেলপথ এবং অবকাঠামোসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা জোরদারের উপায় নিয়ে আলোচনা হয়।
প্রধানমন্ত্রী জাপানের বেসরকারি কোম্পানি ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গেও বৈঠক করেন। এসব বৈঠকে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক বাড়ানো এবং বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ সম্প্রসারণের বিষয়টি গুরুত্ব পায়।
এ ছাড়া জাপানে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তিনি। দেশের উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরে উন্নত বাংলাদেশ গড়তে তাঁদের সহযোগিতা চান প্রধানমন্ত্রী। জাপানের রাজনৈতিক নেতা, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি ও উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গেও বৈঠক করেন তিনি। এসব আলোচনায় বিনিয়োগ, প্রযুক্তি হস্তান্তর, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার সুযোগ নিয়ে আলোচনা হয়।
বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক ফোরামে অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে বিনিয়োগের সুযোগ তুলে ধরেন এবং জাপানি কোম্পানিগুলোকে এ দেশে কার্যক্রম সম্প্রসারণের আহ্বান জানান।
সফরকালে উপকূলীয় নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক সম্পর্ক, বিনিয়োগ পরিবেশ, কৃষি, দক্ষতা উন্নয়ন, মৎস্য, প্রাণিসম্পদ ও জলবায়ু পরিবর্তনসহ বিভিন্ন বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে ছয়টি সহযোগিতা দলিল সই হয়।
বাংলাদেশের উন্নয়ন কার্যক্রমে সহায়তার জন্য দুই দেশ মোট ৪৬ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন ইয়েন বা প্রায় ২৯৫ দশমিক ৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের দুটি ঋণ প্রকল্পেও সম্মত হয়।
এ ছাড়া জাপান বৈদেশিক বাণিজ্য সংস্থায় (জেটরো) বেসরকারি খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ১৭টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়। এর মধ্য দিয়ে দুই দেশের ব্যবসায়িক সম্পর্ক ও বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ সম্প্রসারণের উদ্যোগ আরও এগিয়ে নেওয়ার কথা জানানো হয়।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির আশা প্রকাশ করেন, প্রধানমন্ত্রীর এ সফর বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্ক আরও জোরদার করবে এবং বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও উন্নয়ন সহযোগিতার নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে। ইউএনবি
মতামত দিন