Views Bangladesh Logo

জাতিসংঘে ‘ইউনিভার্সাল কার্ড’ চালুর পরিকল্পনার কথা জানালেন প্রধানমন্ত্রী

প্রতিটি খাতে সহায়তার জন্য চালু করা বিভিন্ন কার্ডকে সমন্বয় করে একটি ‘ইউনিভার্সাল কার্ড’ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বাংলাদেশ সময় শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) ভোর ৪টা ১৮ মিনিটে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে তিনি এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের পূর্ণাঙ্গ পাঠেও ‘ইউনিভার্সাল কার্ড’ চালুর এই পরিকল্পনার কথা উল্লেখ রয়েছে।

তারেক রহমান বলেন, ভোটের গণতন্ত্রের পাশাপাশি সরকার অর্থনীতির গণতন্ত্রায়ন নিশ্চিত করতে চায়, যাতে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও সমৃদ্ধির সুফল প্রতিটি পরিবার ও নাগরিকের কাছে পৌঁছে। এ লক্ষ্য পূরণে ইতোমধ্যে ফ্যামিলি কার্ড, ফার্মার্স কার্ড, স্পোর্টস কার্ড ও ই-হেলথ কার্ডের মতো বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির মাধ্যমে অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া মানুষের জন্য সহায়তা কর্মসূচি চালু করা হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রতিটি পরিবারের নারী প্রধানের নামে ইস্যু করা ‘ফ্যামিলি কার্ডকে’ সরকার নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করে। বিভিন্ন খাতে সহায়তার জন্য চালু করা কার্ডগুলোকে সমন্বয় করে একটি ‘ইউনিভার্সাল কার্ড’ চালু করাও সরকারের পরিকল্পনায় রয়েছে।

তারেক রহমান বলেন, চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে দেওয়া ৩১ দফা কর্মসূচি সরকার বাস্তবায়ন করে চলেছে। জাতিসংঘ ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার ‘কাউকে পিছিয়ে রাখা যাবে না’ নীতির সঙ্গে সরকারের ৩১ দফা কর্মসূচির অন্তত ৭৩ শতাংশ কার্যক্রমের সরাসরি এবং ২৭ শতাংশ কার্যক্রমের পরোক্ষভাবে মিল রয়েছে।

তিনি বলেন, এসব কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে শহর ও গ্রামের মধ্যে উন্নয়ন বৈষম্য কমানোর পাশাপাশি ২০৩০ এজেন্ডার সব ক্ষেত্রে জবাবদিহিতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক টেকসই উন্নয়ন এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে। বাংলাদেশ সরকার শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও খেলাধুলাকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে বলেও জানান তিনি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, দেশের ইতিহাসে এবারই শিক্ষা খাতে সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে পর্যায়ক্রমে শিক্ষা খাতে ব্যয় জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। নৈতিক মানসম্পন্ন ও কর্মমুখী শিক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিত করতে কারিগরি ও ব্যবহারিক শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়ে শিক্ষা কারিকুলাম প্রণয়ন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রথম শ্রেণি থেকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ব্যাগ, পোশাক বা স্কুল ইউনিফর্ম এবং বিনামূল্যে দুপুরের খাবার দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির হার ও শিক্ষার মান বাড়বে বলে সরকার আশা করছে। খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে প্রথমবারের মতো শিক্ষা সিলেবাসে ‘স্পোর্টস’কেও একটি বিষয় হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে গত জুনে স্কুলশিক্ষার্থীদের নিয়ে সারাদেশে মাসব্যাপী আয়োজিত একটি ফুটবল টুর্নামেন্টে ২০ লাখের বেশি শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছে।

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ