বিমান দুর্ঘটনা: নিহত বেড়ে ১৯

ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহাম্মদ জাহেদ কামাল জানিয়েছেন, ‘রাজধানীর উত্তরার দিয়াবাড়ি মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ক্যাম্পাসে বিমান দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৯ জন নিহত হয়েছেন’। নিয়ন্ত্রণকক্ষের দায়িত্বরত কর্মকর্তা লিমা খানম জানান, ‘তাদের একজনের মৃত্যু হয়েছে ঘটনাস্থলেই। আশঙ্কাজনক চারজনকে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর হেলিকপ্টারে করে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) নেয়া হয়েছে’।
এছাড়া বিমানবাহিনীর প্রশিক্ষণ বিমানটির বিধ্বস্তের ঘটনায় দগ্ধ ও আহত শিক্ষার্থী মো. জুনায়েত হাসানের মৃত্যু ঘটেছে জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে। মাইলস্টোনের তৃতীয় শ্রেণির এই শিক্ষার্থীর (কোড ২০৬৬) অভিভাবকদের খোঁজ করছে হাসপাতালটির কর্তৃপক্ষ। নিহত অন্য ১৮ জনের মধ্যে রয়েছেন এফ-৭ বিজিআই প্রশিক্ষণ বিমানটির পাইলট স্কোয়াড্রন লিডার তৌকির ইসলাম সাগরও। দেড় শতাধিক আহতের বেশিরভাগই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থী।
আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সোমবার (২১ জুলাই) বেলা ১টা ২৪ মিনিটে বিমানবাহিনীর এফ-৭ বিজিআই প্রশিক্ষণ বিমানটি মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের একটি ভবনে বিধ্বস্ত হলে আগুন ধরে যায়। এর ১৮ মিনিট আগে বেলা ১টা ৬ মিনিটে উড্ডয়ন করে বিমানটি।
বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৭০ জন। তাদের ৫০ জনকেই গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট এবং ঢাকা মেডিকল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের শরীরে গুরুতর পোড়ার চিহ্ন রয়েছে বলে জানিয়েছেন ইনস্টিটিউটের পরিচালক ডা. নাসির উদ্দিন। তিনি জানান, আহতদের বেশিরভাগই মাইলস্টোনের শিক্ষার্থী।
অন্য চারজন চিকিৎসাধীন সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ)। আহত আরও ১৬ জনকে নেয়া হয়েছে বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল, উত্তরা আধুনিক মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, কুয়েত মৈত্রী হাসপাতাল, উত্তরা উইমেন্স মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।
উদ্ধার ও তদন্ত কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিট, সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনী ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
দুর্ঘটনার পর শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সন্তানদের খোঁজে কলেজ ক্যাম্পাস ছাড়াও হাসপাতালগুলোতে জড়ো হয়েছেন অসংখ্য অভিভাবক।
এদিকে বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় বেলা সাড়ে তিনটা পর্যন্ত ভর্তি ২৮ জনের নাম জানিয়েছে জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট কর্তৃপক্ষ। ইনস্টিটিউটের ভর্তি তালিকায় থাকা দগ্ধরা হলেন, শামীম ইউসুফ (১৪), মাহিন (১৫), আবিদ (১৭), রফি বড়ুয়া (২১), সায়েম (১২), সায়েম ইউসুফ (১৪), মুনতাহা (১১), নাফি (), মেহেরিন (১২), আয়মান (১০), জায়েনা (১৩), ইমন (১৭), রোহান (১৪), আবিদ (৯), আশরাফ (৩৭), ইউশা (১১), পায়েল (১২), আলবেরা (১০), তাসমিয়া (১৫), মাহিয়া, অয়ন (১৪), ফয়াজ (১৪), মাসুমা (৩৮), মাহাতা (১৪), শামীম, জাকির (৫৫), নিলয় (১৪) ও সামিয়া।
মাইলস্টোন কলেজের জনসংযোগ কর্মকর্তা শাহ বুলবুল জানান, বিদ্যালয় শাখার ক্যানটিনের পাশে একটি ক্লাসরুম বিধ্বস্ত হয়েছে বিমানটির আঘাতে। তিনি বলেন, ‘নিরাপত্তা বাহিনী পুরো এলাকা ঘিরে রেখেছে। কলেজ কর্তৃপক্ষকেও ঘটনাস্থলে যেতে দেয়া হচ্ছে না’।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে