প্রিমিয়ার লিগের দুই টাইটানের লড়াই, বিশ্বকাপে হালান্ড বনাম গ্যাব্রিয়েল
প্রিমিয়ার লিগের বহুল আলোচিত প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবার বিশ্বমঞ্চে। রোববার নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে শেষ ষোলোর লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে নরওয়ে ও ব্রাজিল। আর সেই ম্যাচের সবচেয়ে আকর্ষণীয় লড়াই হতে যাচ্ছে নরওয়ের তারকা স্ট্রাইকার আর্লিং হালান্ড ও ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্ডার গ্যাব্রিয়েল মাগালিয়ায়েসের মধ্যে।
ম্যানচেস্টার সিটির গোলমেশিন হালান্ড এবং আর্সেনালের রক্ষণভাগের অন্যতম ভরসা গ্যাব্রিয়েলের ব্যক্তিগত দ্বৈরথ গত কয়েক মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগের সবচেয়ে রোমাঞ্চকর শারীরিক ও কৌশলগত লড়াইগুলোর একটি হয়ে উঠেছে। এবার সেই ক্লাব ফুটবলের উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ছে বিশ্বকাপের মঞ্চে, যেখানে সেমিফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে মুখোমুখি হবেন তারা।
দুজনের খেলার ধরনেও রয়েছে বেশ কিছু মিল। শক্তিশালী শারীরিক গঠন, তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ মানসিকতা এবং বাঁ পায়ের খেলোয়াড়—নিজ নিজ ক্লাবের গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ তারা। ২০২২ সালের জুলাইয়ে হালান্ড ইংল্যান্ডে যোগ দেওয়ার পর থেকে তাদের প্রতিটি সাক্ষাৎই ছিল তীব্র শারীরিক সংঘর্ষ ও কৌশলগত লড়াইয়ে ভরপুর।
এই প্রতিদ্বন্দ্বিতার ইতিহাসে রয়েছে বেশ কয়েকটি আলোচিত ঘটনা। ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে শিরোপা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ এক ম্যাচে গ্যাব্রিয়েলের কঠোর মার্কিংয়ের মধ্যেও হালান্ড একটি গোল ও একটি অ্যাসিস্ট করে ম্যানচেস্টার সিটিকে ৩-১ ব্যবধানে জয় এনে দেন। ওই ম্যাচে একটি পেনাল্টি সিদ্ধান্তও পরে বাতিল করা হয়েছিল।
২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে ইতিহাদ স্টেডিয়ামে ২-২ গোলে ড্র হওয়া ম্যাচে তাদের দ্বৈরথ আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ম্যাচের শেষ দিকে সিটির সমতাসূচক গোলের পর হালান্ড ম্যাচের বল গ্যাব্রিয়েলের মাথার পেছনে ছুড়ে মারেন। ঘটনাটি ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। ইংল্যান্ডের সাবেক স্ট্রাইকার ইয়ান রাইট এটিকে উসকানিমূলক আচরণ বলে মন্তব্য করেন। ম্যাচ শেষে আর্সেনাল কোচ মিকেল আর্তেতাকে ‘বিনয়ী থাকতে’ বলেও আলোচনায় আসেন হালান্ড।
তবে ফিরতি লড়াইয়ে জবাব দেয় আর্সেনাল। এমিরেটস স্টেডিয়ামে ৫-১ গোলের বড় জয়ে প্রথম গোল করার পর হালান্ডের সামনেই উদযাপন করেন গ্যাব্রিয়েল। পরে তিনি দুই দলের উত্তেজনাপূর্ণ সম্পর্ককে প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলের স্বাভাবিক অংশ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এটি এক ধরনের ‘খেলার যুদ্ধ’, যেখানে প্রতিপক্ষকে উসকে দেওয়াও স্বাভাবিক বিষয়।
পরিসংখ্যানও তাদের প্রতিদ্বন্দ্বিতার তীব্রতা তুলে ধরে। প্রিমিয়ার লিগে আটটি ম্যাচে তারা একসঙ্গে মাঠে ছিলেন মোট ৭০৬ মিনিট। এই সময়ে দুজনের মধ্যে সরাসরি লড়াই হয়েছে ২৬ বার। এর মধ্যে ১৬ বার জয়ী হয়েছেন হালান্ড। গ্যাব্রিয়েল হালান্ডকে চারবার ফাউল করেছেন, আর হালান্ড করেছেন তিনটি ফাউল।
তাদের দ্বৈরথে রেফারিরাও প্রায়ই শারীরিক লড়াই চলতে দিয়েছেন। গত এপ্রিলে সর্বশেষ ক্লাব ম্যাচে রেফারি অ্যান্থনি টেইলর দুই খেলোয়াড়ের জার্সি টানার অভিযোগ উপেক্ষা করে খেলা চালিয়ে যেতে বলেন। সেই ম্যাচে একাধিকবার ধস্তাধস্তি, হালান্ডের জার্সি ছিঁড়ে যাওয়া এবং শেষ দিকে মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে। পরে হালান্ড বলেন, তিনি চাইলে পড়ে গিয়ে প্রতিপক্ষের লাল কার্ড আদায় করতে পারতেন, কিন্তু তিনি দাঁড়িয়ে থেকেই লড়াই চালিয়ে যেতে চেয়েছিলেন।
তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলেও দুজনের মধ্যে পারস্পরিক সম্মানের অভাব নেই। গ্যাব্রিয়েল প্রকাশ্যেই বলেছেন, হালান্ডকে সামলানোর চ্যালেঞ্জ তিনি উপভোগ করেন। অন্যদিকে হালান্ডও স্বীকার করেছেন, গ্যাব্রিয়েলের বিপক্ষে খেলাটা সবসময়ই তার জন্য কঠিন এবং উচ্চমানের পরীক্ষা।
এবার বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর লড়াইয়ে নিজ নিজ জাতীয় দলের হয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করবেন এই দুই তারকা। নিউ জার্সিতে তাদের ব্যক্তিগত এই আক্রমণ বনাম রক্ষণ দ্বৈরথই অনেকাংশে নির্ধারণ করে দিতে পারে, নরওয়ে নাকি ব্রাজিল—কারা জায়গা করে নেবে বিশ্বকাপের শেষ আটে।
মতামত দিন