ক্যামেরা টেস্টে গ্যালাক্সি এস২৬ আল্ট্রার থেকে পিছিয়ে পিক্সেল ও আইফোন
স্যামসাং গ্যালাক্সি এস২৬ আল্ট্রা, গুগল পিক্সেল ১১ প্রো এক্সএল ও আইফোন ১৭ প্রো ম্যাক্সের মধ্যে পরিচালিত ক্যামেরা তুলনামূলক পরীক্ষায় সামগ্রিকভাবে সেরা পারফরম্যান্স দেখিয়েছে গ্যালাক্সি এস২৬ আল্ট্রা। বিশেষ করে ছবির সূক্ষ্ম ডিটেইল, ত্বকের স্বাভাবিক টেক্সচার এবং পোর্ট্রেটের মানের ক্ষেত্রে অন্য দুই প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে এগিয়ে রয়েছে স্যামসাংয়ের ফ্ল্যাগশিপ।
পরীক্ষায় ছবিগুলো ১০০ শতাংশ জুম করে বিশ্লেষণ করা হয়। এতে মুখের সূক্ষ্ম রেখা ও ত্বকের টেক্সচার ধরে রাখার ক্ষেত্রে গ্যালাক্সি এস২৬ আল্ট্রা সবচেয়ে ভালো ফল দেয়। গুগল পিক্সেল ১১ প্রো এক্সএলও কাছাকাছি মানের ছবি তুললেও ডিটেইল সংরক্ষণে এস২৬ আল্ট্রার তুলনায় সামান্য পিছিয়ে ছিল। অন্যদিকে আইফোন ১৭ প্রো ম্যাক্সের ছবিতে তুলনামূলক বেশি সফটনেস দেখা যায়, ফলে সূক্ষ্ম ডিটেইলও কিছুটা কম স্পষ্ট ছিল।
পোর্ট্রেট ফটোগ্রাফির ক্ষেত্রেও গ্যালাক্সি এস২৬ আল্ট্রা ও পিক্সেল ১১ প্রো এক্সএল ভালো করেছে। বিশেষ করে পুরো শরীরের ছবিতে মূল বিষয়বস্তু এবং পেছনের অংশ আলাদা করার ক্ষেত্রে দুই ফোনের প্রসেসিং বেশ নিখুঁত ছিল। তবে আইফোন ১৭ প্রো ম্যাক্সের কয়েকটি ছবিতে ব্যাকগ্রাউন্ড ব্লারের প্রয়োগ পুরোপুরি নির্ভুল হয়নি। ফলে প্রান্ত শনাক্তকরণে কিছুটা অসামঞ্জস্য চোখে পড়ে।
রঙ ও এক্সপোজারের বিচারে পিক্সেল ১১ প্রো এক্সএলের ছবিতে কিছুটা ঠান্ডা টোন এবং তুলনামূলক কম উজ্জ্বলতা দেখা গেছে। তবে ছবির রঙকে স্বাভাবিক ও ভারসাম্যপূর্ণ বলে মনে হয়েছে। অতিরিক্ত প্রসেসিং না করে বাস্তব দৃশ্যের কাছাকাছি রাখার দিক থেকে পিক্সেলের ক্যামেরা ভালো ফল দিয়েছে।
এদিকে পিক্সেল সিরিজের নতুন মডেলে ৫এক্স টেলিফোটো ক্যামেরায় পোর্ট্রেট মোড যুক্ত হওয়ায় আগের সীমাবদ্ধতাগুলোর একটি দূর হয়েছে। এতে দূরের বিষয়বস্তুর পোর্ট্রেট তোলার সুযোগ আরও বাড়লেও সামগ্রিক পরীক্ষার ফল বদলাতে পারেনি। ডিটেইল, সাবজেক্ট সেপারেশন ও পোর্ট্রেটের সামগ্রিক মান বিবেচনায় গ্যালাক্সি এস২৬ আল্ট্রাই এগিয়ে থেকেছে।
তিন ফ্ল্যাগশিপের এই ক্যামেরা তুলনায় তাই সামগ্রিক বিজয়ী হিসেবে উঠে এসেছে স্যামসাং গ্যালাক্সি এস২৬ আল্ট্রা। পিক্সেল ১১ প্রো এক্সএল শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও আইফোন ১৭ প্রো ম্যাক্স বিশেষ করে ডিটেইল ও পোর্ট্রেট প্রসেসিংয়ের কিছু ক্ষেত্রে তুলনামূলকভাবে পিছিয়ে পড়েছে।
মতামত দিন