Views Bangladesh Logo

টানা চার দিন বৃষ্টির আভাস, একাধিক জেলায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতির শঙ্কা

ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আগামী চার দিন বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। বিশেষ করে চট্টগ্রাম ও বরিশাল বিভাগে ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। টানা এই বৃষ্টির প্রভাবে দেশের বেশ কিছু নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে সিলেট, সুনামগঞ্জ ও নওগাঁসহ কয়েকটি জেলার নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ও নতুন করে এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা করছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

আবহাওয়া অফিসের চার দিনের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি হতে পারে। খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কোনো কোনো স্থানে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এর ফলে আজ সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা কিছুটা কমলেও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

পূর্বাভাসে আরও জানানো হয়, আগামীকাল শুক্রবারও আট বিভাগে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকবে। এ দিন খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অধিকাংশ স্থানে এবং রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি হতে পারে। দেশের কোথাও কোথাও আবার মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।

পরবর্তী দুই দিনও (শনিবার ও রবিবার) একই আবহাওয়া বিরাজ করতে পারে। এ সময়ে খুলনা, বরিশাল ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ এলাকা এবং ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, রংপুর ও ময়মনসিংহের কিছু কিছু স্থানে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণের আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

এদিকে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, ভারী বৃষ্টির কারণে সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জে কুশিয়ারা নদীর পানি বিপৎসীমার ৩৫ সেন্টিমিটার এবং সুনামগঞ্জের মারকুলিতে ২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছে। এ ছাড়া নেত্রকোনার কলমাকান্দায় সোমেশ্বরী নদীর পানি বিপৎসীমার ৫ সেন্টিমিটার ওপরে রয়েছে। তবে সুনামগঞ্জের ছাতক স্টেশনে সুরমা নদীর পানি কিছুটা কমে বিপৎসীমার নিচে নেমে এসেছে।

বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্রের আশঙ্কা, আগামীকাল পর্যন্ত চট্টগ্রাম ও বরিশাল বিভাগে অতি ভারী বৃষ্টির প্রভাবে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সুরমা ও কুশিয়ারা নদ-নদীর পানি আগামী দুই দিন আরও বাড়তে পারে। ফলে সিলেট ও সুনামগঞ্জের নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। এর পাশাপাশি রাজশাহী বিভাগের আত্রাই নদীর পানি বেড়ে নওগাঁ জেলার নিম্নাঞ্চলেও বন্যা দেখা দিতে পারে।

দক্ষিণাঞ্চলের মুহুরী, ফেনী, হালদা, সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি কমার দিকে থাকলেও আগামী দুই দিনে বান্দরবান, কক্সবাজার ও চট্টগ্রামের সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি সতর্কসীমায় পৌঁছাতে পারে। এতে এসব এলাকার নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে।

দেশের প্রধান নদীগুলোর মধ্যে ব্রহ্মপুত্রের পানি স্থিতিশীল থাকলেও যমুনা ও গঙ্গা-পদ্মার পানি বাড়ছে। আগামী দুই দিনে কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইল জেলায় ব্রহ্মপুত্র-যমুনা অববাহিকার পানি সতর্কসীমায় পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে তিস্তা ও দুধকুমার নদীর পানি সামান্য কমলেও লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রামের নদীসংলগ্ন এলাকাগুলো সাময়িক প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। তবে এই মুহূর্তে নেত্রকোনার চলমান বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতির আশা করছে বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র।

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ