মাথাপিছু বৈদেশিক ঋণ বেড়েছে ২২ ডলার
দেশে গত অর্থবছরের তুলনায় এবার মাথাপিছু বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ বেড়েছে ২২ ডলার ৫ সেন্ট। ফলে চলতি অর্থবছরে মাথাপিছু ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫৭৯ ডলার ২৮ সেন্ট। যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৬৩ হাজার ৪৮ টাকার সমান। গত অর্থবছরে এর পরিমাণ ছিল ৫৫৭ ডলার ২৩ সেন্ট।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, গত পাঁচ অর্থবছরে মাথাপিছু ঋণ বেড়েছে ৫৩ শতাংশ। কারণ ২০১৯-২০ অর্থবছরে এ ধরনের ঋণের পরিমাণ ছিল ৩৭৮ ডলার ২ সেন্ট বা ৩১ হাজার ৭৭৬ টাকা।
বিগত পাঁচ অর্থবছরে মোট বৈদেশিক ঋণ প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে এবং এই ধরনের ঋণ ২০২৩-২৪ অর্থবছরে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ২১ দশমিক ৮ শতাংশে পৌঁছেছে।
এমন এক সময়ে বৈদেশিক ঋণ বেড়েছে যখন দেশের বৈদেশিক মুদ্রার চাপ এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ক্রমাগত কমছে। তবে স্বল্পমেয়াদিী বৈদেশিক ঋণ আগের অর্থবছরের তুলনায় ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ২৯ শতাংশ কমে ১ হাজার ৬০৩ কোটি ডলার হয়েছে।
তথ্যে আরও দেখা গেছে, পাবলিক সেক্টর চলতি বছরের জুনের শেষে ৭ হাজার ৬৬৭ কোটি ডলার বৈদেশিক ঋণ নিয়েছিল। যার মধ্যে ৬ হাজার ৪৫৭ কোটি ডলার সরাসরি সরকার এবং বাকি অর্থ বিভিন্ন সরকারিী প্রতিষ্ঠান নিয়েছে।
বেসরকারী খাতে স্বল্পমেয়াদি বৈদেশিক ঋণ মার্চে ২ হাজার ২১৮ কোটি ডলার থেকে জুনে আবার বেড়ে ২ হাজার ২২৫ কোটি ডলার হয়েছে। তবে ব্যবসায়ীদের ঋণের পরিমাণ চলতি বছরের মার্চে ৮১৩ কোটি ডলার থেকে জুনে কমে ৭৬৩ কোটি ডলারে নেমে এসেছে।
সাধারণত, বহিরাগত ঋণ জিডিপির ৪০ শতাংশের বেশি হলে অর্থনীতিকে ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদরা।
একটি দেশের বাহ্যিক ঋণ বলতে বোঝায় বিদেশিী ঋণদাতা, আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং বিদেশিী বেসরকারি
প্রতিষ্ঠান থেকে নেওয়া ঋণকে। বাংলাদেশ সাধারণত বিশ্বব্যাংক, আন্তর্জাতিক
মুদ্রা তহবিল, এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক, ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক এবং প্রধান বিদেশি বাণিজ্যিক ব্যাংক
থেকে বৈদেশিক ঋণ গ্রহণ করে থাকে।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে