Views Bangladesh Logo

শান্তিপূর্ণ ভোটে স্বস্তি রাজশাহীতে, ভোটারদের চোখে ‘রাজনীতির সৌন্দর্য’

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ঘিরে রাজশাহী মহানগরজুড়ে ছিল শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশ। ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা এবং প্রশাসনের সমন্বিত ব্যবস্থাপনায় নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়েছে ভোটগ্রহণ। এতে সন্তোষ প্রকাশ করে অনেকেই বলেছেন, এ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ দেখলো রাজনীতির সৌন্দর্য।

মহানগর বুলনপুর এলাকার বাসিন্দা সুখি বেগম (২০) বলেন, সরকারের বুদ্ধিদীপ্ত কৌশল, নির্বাচন কমিশনের দিকনির্দেশনা, প্রশাসনের তৎপরতা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সক্রিয় ভূমিকা এবং জনগণের দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষা ও সহযোগিতার প্রতিফলন ঘটেছে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে।

তিনি বলেন, জন্মের পর থেকে শুনে আসছি ভোটের মাধ্যমে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন, তারাই দেশের হাল ধরেন। তাঁদের সিদ্ধান্তের সুফল-কুফল জনগণ ভোগ করে। আশা করছি, নির্বাচিত সরকার দেশকে সঠিক পথে এগিয়ে নেবে। জনগণ, দলের কর্মী ও দেশকে ফেলে কেউ পালিয়ে যাবে না। প্রতিহিংসা বা প্রতিশোধের রাজনীতি দেখতে চাই না। ভয়-আতঙ্ক ছাড়া জীবনযাপন করতে চাই।

রাজশাহী সিটি করপোরেশনের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটার মোসা. তাসমিয়া রাকা বলেন, ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। নগরীর মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে ভোট দিতে এসে তাঁর কাছে ঈদের মতো অনুভূতি হয়েছে।

তিনি বলেন, খুব সুন্দরভাবে ভোট হয়েছে। আমি উন্নয়নের কথা বিবেচনা করেই ভোট দিয়েছি। ফলাফলেও তার প্রতিফলন পেয়েছি। এবার খুন, গুম, হয়রানি ও মানুষকে জিম্মি করার প্রথার অবসান ঘটবে—এ ব্যাপারে আমি আশাবাদী।

তিনি আরও বলেন, দেশ, দল ও মানুষ নিয়ে চিনিমিনি করার রাজনীতির ফল অনেকেই ভুগছেন। মনগড়া প্রথা চালু করে ব্যক্তিস্বার্থে রাজনীতি করলে তার পরিণতি চোখের সামনেই রয়েছে। দেশের মানুষ যেমন মাথায় তুলে নিতে পারেন, তেমনি প্রত্যাখ্যানও করতে পারেন—এটি মনে রেখে দেশ পরিচালনা করলে পথ হারাবে না বাংলাদেশ।

তাসমিয়া রাকা জানান, মহানগরীর ৪ নম্বর ওয়ার্ডের পিটিআই স্কুল কেন্দ্রে তিনি প্রথম ভোটার হিসেবে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। তার ভাষ্য, কেন্দ্রের পরিবেশ ছিল সুশৃঙ্খল ও স্বস্তিদায়ক। ভোটারদের মতে, সুষ্ঠু ও সুন্দর পরিবেশে ভোটগ্রহণ অব্যাহত থাকলে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া আরও শক্তিশালী হবে।

ডিঙ্গাডোবা এলাকার বাসিন্দা মো. সুমন বলেন, 'গত ১৫ বছর ভোটের নামে যে নাটক হয়েছে, তার অবসান ঘটছে। বিশ্ব দেখলো বাংলাদেশের রাজনীতির সৌন্দর্য। রাজনীতিবিদরা বুঝেছেন, প্রতিহিংসার রাজনীতি দেশের মানুষ দেখতে চান না। এবার ভোট ডাকাতির কোনো অভিযোগও শোনা যায়নি। ফলে বিশ্ববাসী একটি সুন্দর নির্বাচন প্রত্যক্ষ করলো।'

রাজশাহী জেলা প্রশাসক, জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও রিটার্নিং কর্মকর্তা আফিয়া আখতার বলেন, সরকার ও নির্বাচন কমিশনের সঠিক দিকনির্দেশনা, জনগণের আস্থা এবং প্রার্থীদের আচরণবিধি মেনে চলার কারণেই নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে। তিনি জানান, সেনাবাহিনীসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় জাতি একটি সুন্দর নির্বাচন পেয়েছে।

উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে মাঠে ছিলেন সেনাবাহিনীসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। ভোটকে ঘিরে দায়িত্ব পালন করছেন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটরা, যা ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। রিটার্নিং কর্মকর্তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করেছেন। নির্বাচন কমিশনের কেন্দ্রীয় সমন্বয় সেল পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছে এবং সুরক্ষা অ্যাপের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক তথ্য পেয়েছে ইসি।

এদিকে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন বিষয়ে অনুষ্ঠিত গণভোট শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন হওয়ায় জাতিকে অভিনন্দন জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস।

এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ, রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বশীল আচরণ, প্রার্থীদের সংযম এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর পেশাদারিত্ব প্রমাণ করেছে যে গণতন্ত্রের প্রতি দেশের অঙ্গীকার অটুট। জনগণ সাংবিধানিক অধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন।

তিনি নির্বাচন কমিশন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সশস্ত্র বাহিনী, প্রশাসন, পর্যবেক্ষক দল, গণমাধ্যমকর্মী এবং ভোটগ্রহণে সম্পৃক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ধন্যবাদ জানান।

প্রধান উপদেষ্টা রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের উদ্দেশে আহ্বান জানান, চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণার পরও যেন গণতান্ত্রিক শালীনতা, সহনশীলতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বজায় থাকে। মতভেদ থাকলেও জাতীয় স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ থাকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ আবারও প্রমাণ করেছে—জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস। আমরা একটি জবাবদিহিমূলক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনে এগিয়ে যাব। এই নির্বাচন আমাদের জন্য আনন্দ ও উৎসবের। এর মধ্য দিয়ে নতুন বাংলাদেশের এক যাত্রা শুরু হলো।

তিনি আরও বলেন, দেশের ইতিহাসে এটিই সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর নির্বাচন। এই ধারা অব্যাহত থাকলে গণতন্ত্র আরও সুদৃঢ় হবে।

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ