শেষ টেস্টের আগে পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের ফোন জব্দ করলো পিসিবি
ইংল্যান্ড সফরে একের পর এক অস্বস্তিকর ঘটনায় চাপে থাকা পাকিস্তান ক্রিকেট দলে এবার যোগ হয়েছে নতুন বিতর্ক। সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টেস্টের আগে দলের কয়েকজন ক্রিকেটারের মোবাইল ফোন নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ৩৬৫ নিউজের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যম এ তথ্য জানিয়েছে। তবে কোন ক্রিকেটারদের ফোন নেওয়া হয়েছে এবং কেন এমন সিদ্ধান্ত, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেয়নি পিসিবি।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচের সিরিজে প্রথম দুই টেস্টেই বড় ব্যবধানে হেরেছে পাকিস্তান। হেডিংলিতে ইনিংস ও ১০৩ রানে এবং লর্ডসে ১৯৪ রানে পরাজয়ের পর দলটিতে ব্যাপক পরিবর্তন আনে পিসিবি। সাত ক্রিকেটারকে দেশে ফেরত পাঠানোর পাশাপাশি প্রধান কোচ সরফরাজ আহমেদ ও বোলিং কোচ উমর গুলকেও সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তৃতীয় টেস্টের জন্য নতুন করে সাত ক্রিকেটারকে দলে নেওয়া হয়েছে।
এর মধ্যেই পাকিস্তানি সাংবাদিক আম্বার আলীর বরাতে জানা গেছে, দলের কয়েকজন সদস্যের মোবাইল ফোন পিসিবির কাছে জমা রয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ ফোনগুলো এজবাস্টনে অনুষ্ঠেয় সিরিজের শেষ টেস্ট শেষ না হওয়া পর্যন্ত বোর্ডের হেফাজতেই থাকবে। তবে সংশ্লিষ্ট ক্রিকেটারদের নাম প্রকাশ করা হয়নি। পিসিবিও এখন পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অবশ্য ম্যাচ চলাকালে মোবাইল ফোন ব্যবহারের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ রয়েছে। আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী, ড্রেসিংরুমসহ নির্দিষ্ট নিয়ন্ত্রিত এলাকায় খেলোয়াড় ও সাপোর্ট স্টাফরা মোবাইল ফোন বা অন্য যোগাযোগের যন্ত্র বহন কিংবা ব্যবহার করতে পারেন না। ম্যাচের সততা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এমন বিধান রয়েছে। তবে ম্যাচের নির্দিষ্ট এলাকায় ফোন ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞার সঙ্গে কয়েক দিন ধরে কোনো ক্রিকেটারের ব্যক্তিগত ফোন বোর্ডের হেফাজতে রাখার বিষয়টি এক নয়।
অন্যদিকে, কোনো আনুষ্ঠানিক দুর্নীতিবিরোধী তদন্তের ক্ষেত্রে আইসিসির অ্যান্টি-করাপশন কোডে অনুমোদিত কর্মকর্তাদের কিছু বাড়তি ক্ষমতা রয়েছে। যুক্তিসংগতভাবে মনে হলে কোনো ডিভাইসে তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য থাকতে পারে, নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সেটি জমা দিতে বলা বা প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহের ব্যবস্থা করা যায়। এর আওতায় কল ও ইন্টারনেটের তথ্য, খুদে বার্তা, হোয়াটসঅ্যাপ কথোপকথন, ছবি, ভিডিও, অডিওসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক তথ্য পড়তে পারে। তবে পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের ফোন নেওয়ার সঙ্গে এমন কোনো দুর্নীতিবিরোধী তদন্তের যোগসূত্র রয়েছে, এমন কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য এখনো প্রকাশ হয়নি।
সব মিলিয়ে ইংল্যান্ড সফরে পাকিস্তান দলের সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে। একদিকে সিরিজে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে থাকা, অন্যদিকে দল ও কোচিং স্টাফে বড় রদবদলের পর এবার ক্রিকেটারদের ফোন পিসিবির হেফাজতে নেওয়ার খবর নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। এজবাস্টনে ৯ সেপ্টেম্বর শুরু হতে যাওয়া তৃতীয় টেস্টের আগে এই ঘটনার কারণ নিয়ে পাকিস্তান ক্রিকেটে জল্পনা আরও বাড়ছে।
মতামত দিন