মামলা প্রত্যাহারসহ ৫ দাবি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির চাকরিচ্যুতদের
মামলা প্রত্যাহার করে চাকরিতে পুনর্বহালসহ ৫ দফা দাবি জানিয়েছেন পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির (পবিস) চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। মঙ্গলবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তারা দাবিগুলো জানায়।
দাবিগুলো হলো- মামলা প্রত্যাহারপূর্বক সব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে চাকরিতে পুনর্বহাল করা; দ্বৈতনীতি পরিহারপূর্বক আরইবি-পবিস একীভূতকরণ অথবা অন্যান্য বিতরণ সংস্থার ন্যায় পুনর্গঠন করা; অবশিষ্ট চুক্তিভিত্তিক/অনিয়মিতদের চাকরি নিয়মিতকরণ করা; আরইবি কর্তৃক পবিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দমন পীড়ন, হয়রানি ও উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড বন্ধ করা এবং বিগত সময়ে আরইবির দুর্নীতিবাজদের শাস্তির জন্য নিরপেক্ষ কমিশন গঠন করা।
নোয়াখালী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি থেকে চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা আবু সালাম জাবেদ সংবাদ সম্মেলনে বলেন, দেশের ৮০ ভাগ অঞ্চলে প্রায় ১৪ কোটি মানুষের বিদ্যুৎ সেবায় নিয়োজিত আছে ৮০টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ৪৫ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী। কিন্তু নিয়ন্ত্রক সংস্থা পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (আরইবি) সীমাহীন দুর্নীতি, নিম্নমানের মালামাল ক্রয় ও নন-স্ট্যান্ডার্ড লাইন নির্মাণের কারণে সৃষ্ট গ্রাহক ভোগান্তি, মাঠ পর্যায়ে কাজের অভিজ্ঞতা না থাকা সত্ত্বেও সকল ধরনের পলিসি প্রণয়নসহ আরইবি-পবিস দ্বৈত ব্যবস্থাপনা নিরসনের দাবি জানিয়ে আসছি। দাবির যৌক্তিকতা উপলব্ধি করে সরকারের পক্ষ থেকে সংস্কার কমিটি গঠন করা হলেও সেখানে আরইবি কোনো সহযোগিতা করেনি।
তিনি বলেন, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির পক্ষ থেকে মাঠ পর্যায়ে কোনো ধরনের কর্মসূচি না থাকা সত্ত্বেও আরইবি রাষ্ট্রের নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে ভুল বার্তা দিয়ে পরিকল্পিতভাবে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তাদের বিনা নোটিশে চাকরিচ্যুত করে রাষ্ট্র দ্রোহের মামলা দিয়েছে।
আবু সালাম জাবেদ বলেন, তিন মাস কারাভোগের পর আমরা জামিনে মুক্ত হয়েছি। তারপরও আরইবি থেমে নেই। আমাদের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাময়িক বরখাস্ত, স্ট্যান্ড রিলিজ, ওএসডিসহ হয়রানীমূলক বদলি করছে। এখন পর্যন্ত প্রায় পাঁচ শতাধিক কর্মীকে বদলি করা হয়েছে।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, আমরা শুধু দ্বৈতনীতির অবসান চেয়েছি। সরকারের প্রতি আস্থা রেখে সব ধরনের কর্মসূচি প্রত্যাহার করেছি। তারপরও পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড মামলা, চাকরিচ্যুতি ও হয়রানিমূলক বদলি করছে।
সুমাইয়া আক্তার নামের অন্য একজন চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা অভিযোগ করে বলেন, শুধুমাত্র ফেসবুকে আরইবির বৈষম্য,অনিয়ম, দুর্নীতি নিয়ে কথা বলায় স্বল্প সময়ের নোটিশে আমাকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। আত্মপক্ষ সমর্থনের কোনো সুযোগও দেয়নি।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে