তনু হত্যাকাণ্ডে নতুন রহস্য, সামনে এলো আরও এক ব্যক্তির ডিএনএ
দীর্ঘ ১০ বছর পর কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ছাত্রী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলার তদন্তে নতুন মোড় নিয়েছে। তনুর পোশাক থেকে সংগৃহীত ডিএনএ নমুনায় আরও এক অজ্ঞাত পুরুষের রক্তের আলামত পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
এই নতুন তথ্য ২০১৬ সাল থেকে অমীমাংসিত থাকা বহুল আলোচিত এ হত্যাকাণ্ডে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এর আগে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ফরেনসিক পরীক্ষায় তিনজন ভিন্ন পুরুষের শুক্রাণুর নমুনা পাওয়ার কথা জানিয়েছিল।
রোববার (১৭ মে) রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করে পিবিআই ঢাকা অফিসের পরিদর্শক ও তদন্ত কর্মকর্তা তারিকুল ইসলাম বলেন, ডিএনএ ল্যাব সম্প্রতি তদন্তকারীদের জানিয়েছে যে, ভিকটিমের আলামতে আরও একজন অজ্ঞাত পুরুষের রক্তের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে।
তিনি বলেন, “আগে তিনজন পুরুষের শুক্রাণুর নমুনার তথ্য ছিল। এখন নতুন করে আরেকজন পুরুষের রক্তের ডিএনএ পাওয়া গেছে, যা আগের কোনো ডিএনএ প্রোফাইলের সঙ্গে মেলেনি।”
পিবিআই সূত্র জানায়, নতুন ফরেনসিক তথ্য তদন্তকে আরও জোরালো করেছে এবং অতিরিক্ত সন্দেহভাজনদের ডিএনএ নমুনার সঙ্গে মিলিয়ে দেখার কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হয়েছে। সরকারের উচ্চপর্যায় থেকেও মামলাটি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তদন্তসংশ্লিষ্টরা।
এর আগে, গত ৬ এপ্রিল অবসরপ্রাপ্ত সেনা সার্জেন্ট জাহিদ, ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমান এবং সৈনিক শাহিনুল আলমের ডিএনএ সংগ্রহ ও মিলিয়ে দেখার অনুমতি চেয়ে আদালতে আবেদন করে পিবিআই। আদালতের নির্দেশের পর ২১ এপ্রিল কেরানীগঞ্জের বাসা থেকে হাফিজুর রহমানকে আটক করা হয় এবং পরে তনু হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। তার ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের পর কুমিল্লার আদালতে হাজির করা হলে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
তদন্তসংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, নতুন পুরুষ ডিএনএ প্রোফাইল পাওয়ায় তদন্তে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে সন্দেহভাজন তালিকায় থাকা কয়েকজনকে এখনও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না, কারণ তাদের অনেকেই স্থায়ী ঠিকানায় নেই।
সিআইডির ডিএনএ পরীক্ষক নুসরাত ইয়াসমিনের ফরেনসিক প্রতিবেদনে বলা হয়, তনু হত্যা মামলায় পরীক্ষার জন্য মোট ২৪টি আলামত পাঠানো হয়েছিল। এর মধ্যে একাধিক নমুনায় তিনজন ভিন্ন পুরুষের পূর্ণাঙ্গ ডিএনএ প্রোফাইল পাওয়া যায়। পরে রক্তমাখা একটি কাপড়ের নমুনায় আরও এক অজ্ঞাত ব্যক্তির পৃথক পূর্ণাঙ্গ ডিএনএ প্রোফাইল শনাক্ত হয়, যা আগের নমুনাগুলোর সঙ্গে মেলেনি।
২০১৬ সালের ২০ মার্চ কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকায় প্রাইভেট পড়াতে যাওয়ার পথে নিখোঁজ হন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী সোহাগী জাহান তনু। পরে সেনানিবাসের পাওয়ার হাউসসংলগ্ন জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরদিন তার বাবা ইয়ার হোসেন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও বিচার দাবির জন্ম দিলেও প্রায় এক দশক পরও মামলাটির রহস্য উন্মোচিত হয়নি।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে