Views Bangladesh Logo

লঞ্চ ভাড়া বাড়ল ৭.৫৪ শতাংশ

জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে যাত্রীবাহী লঞ্চের ভাড়া বাড়ানো হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রথম ১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত প্রতি কিলোমিটারে ২৩ পয়সা এবং ১০০ কিলোমিটারের বেশি দূরত্বে প্রতি কিলোমিটারে ২০ পয়সা ভাড়া বেড়েছে। এতে লঞ্চের যাত্রীভাড়া সামগ্রিকভাবে ৭ দশমিক ৫৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। যাত্রীপ্রতি সর্বনিম্ন ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৫ টাকা।

এর আগে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির পর লঞ্চের ভাড়া উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানোর দাবি জানিয়েছিলেন মালিকরা। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌচলাচল (যাপ) সংস্থা নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের কাছে দেওয়া চিঠিতে দূরত্বভেদে প্রতি কিলোমিটারে ৫১ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত ভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব দেয়।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দেওয়া ওই চিঠিতে সংগঠনটির সভাপতি গোলাম নবী আলমগীর উল্লেখ করেন, প্রথম ১০০ কিলোমিটারের ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ২ টাকা ৯৫ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৪ টাকা ৪৫ পয়সা এবং পরবর্তী দূরত্বে ২ টাকা ৫২ পয়সা থেকে ৪ টাকা ২ পয়সা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সর্বনিম্ন ভাড়া ৩২ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩৫ টাকা করার কথা বলা হয়।

লঞ্চ মালিকদের হিসাবে, এ প্রস্তাব কার্যকর হলে প্রথম ১০০ কিলোমিটারে ভাড়া প্রায় ৫১ শতাংশ এবং পরবর্তী দূরত্বে প্রায় ৬০ শতাংশ বাড়ত। এমনকি দাবি অনুযায়ী ভাড়া নির্ধারণ করা হলে ঢাকা-বরিশাল নৌপথে ডেক শ্রেণির ভাড়া ৪২৯ টাকা থেকে বেড়ে ৬৬০ টাকা হতে পারত। কেবিনের ভাড়া ডেক শ্রেণির ভাড়ার চারগুণ হিসেবে নির্ধারণের কথাও জানিয়েছিল সংগঠনটি।

চিঠিতে মালিকরা জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়টি তুলে ধরে বলেন, সোমবার ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ১১৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৩৫ টাকা করা হয়েছে। এতে তাদের জ্বালানি ব্যয় প্রায় ১৮ শতাংশ বেড়েছে। অভ্যন্তরীণ নৌপথে চলাচলকারী যাত্রীবাহী লঞ্চ ডিজেল ও মবিলনির্ভর হওয়ায় জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির সরাসরি প্রভাব পরিচালন ব্যয়ে পড়ছে বলে দাবি তাদের।

শুধু জ্বালানি নয়, বিভিন্ন ফি ও পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধির কথাও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়। মালিকদের দাবি, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) কনজারভেন্সি চার্জ ৩০ শতাংশ, রুট পারমিট ফি ৫০ শতাংশ এবং বার্দিং চার্জ ১১৪ শতাংশ বেড়েছে। পাশাপাশি শ্রমিকদের মজুরি, নৌযানের সার্ভে-রেজিস্ট্রেশন, আয়কর ও ভ্যাটসহ বিভিন্ন খাতেও ব্যয় বেড়েছে।

এ ছাড়া লঞ্চের প্লেট, অ্যাঙ্গেল, প্রপেলার, ইঞ্জিনের যন্ত্রাংশ, ওয়েল্ডিং রড, গ্যাস, রং ও স্পেয়ার পার্টসের দাম এবং ডকিং খরচ কোনো কোনো ক্ষেত্রে ৫০ থেকে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে বলে দাবি করেছে মালিকদের সংগঠন। তাদের ভাষ্য, সড়ক যোগাযোগের বিস্তারের কারণে লঞ্চে যাত্রীসংখ্যাও কমেছে। ফলে বাড়তি ব্যয় ও কম যাত্রীর কারণে ব্যবসা টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় প্রস্তাবিত হারে ভাড়া বাড়ানো অথবা ডিজেলের বাড়তি দাম প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছিলেন তারা।

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ