জামায়াতের সেই এমপিকে পর্দা ও ওভেন দিতে চাইলেন পার্থ, স্পিকার বললেন ‘অসম্মানজনক’
সংসদ সদস্যদের সরকারি আবাসনে ওয়াশিং মেশিন, মাইক্রোওভেন ও পর্দা দেওয়ার দাবি ঘিরে জাতীয় সংসদে নতুন করে আলোচনা হয়েছে। এ নিয়ে জামায়াতের সংসদ সদস্য মিজানুর রহমানের সমালোচনা করে বক্তব্য দেন ভোলা-১ আসনের সংসদ সদস্য আন্দালিব রহমান পার্থ। তবে তার বক্তব্যকে ‘অসম্মানজনক’ আখ্যা দিয়ে বিষয়টি আর না বাড়ানোর আহ্বান জানান স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে আন্দালিব রহমান পার্থ বলেন, সংসদ সদস্যদের জনগণের সমস্যা নিয়ে কথা বলা উচিত। ওয়াশিং মেশিন, মাইক্রোওভেন বা পর্দার মতো বিষয় সংসদের ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং জনমনে নেতিবাচক বার্তা দেয়।
তিনি বলেন, অনেক কষ্টের পরে আমরা এ সংসদ পেয়েছি। একজন সংসদ সদস্য এখানে দাঁড়িয়ে জনগণের কথা বলবেন, কিন্তু তিনি ওয়াশিং মেশিন পেলেন কি না, মাইক্রোওভেন পেলেন কি না, তা নিয়ে কথা বলছেন—এটা আমাকে লজ্জা দেয়, সংসদকেও লজ্জা দেয়।
ব্যঙ্গাত্মক ভঙ্গিতে পার্থ আরও বলেন, ভবিষ্যতে যদি ওই সংসদ সদস্যের পর্দা বা মাইক্রোওভেন প্রয়োজন হয়, তাহলে আমি নিজেই তা কিনে দিতে প্রস্তুত আছি।
তবে স্পিকার সঙ্গে সঙ্গে হস্তক্ষেপ করে বলেন, এ ধরনের মন্তব্য অন্য একজন সংসদ সদস্যের জন্য অসম্মানজনক হতে পারে। মিজানুর রহমান নিজের জন্য কিছু চাননি; সংসদ সদস্যদের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি আবাসনে বসবাসকারীদের সুবিধার কথা তুলে ধরেছিলেন।
স্পিকার বলেন, উনি নিজের জন্য চাননি, যারা সংসদের দেওয়া ভবনে থাকেন, তাদের জন্য বলেছেন। বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি করার প্রয়োজন নেই।
তিনি আরও বলেন, সংসদ সদস্যদের আবাসনসংক্রান্ত বিষয়গুলো সংসদ সচিবালয়ের হাউজ কমিটির মাধ্যমে উত্থাপন করা যেত। যদিও বিষয়টি সংসদে না বললেও চলত, তবু এটিকে কোনো গুরুতর বা গর্হিত অপরাধ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
পার্থের বক্তব্যের পর পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেন, একজন সদস্য সবার জন্য একটি বিষয় উত্থাপন করেছেন। সেটিকে কেন্দ্র করে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণাত্মক মন্তব্য করা ঠিক হয়নি।
তিনি বলেন, ওনার কাছে তো কেউ কিছু চায়নি। এখানে দাঁড়িয়ে কারও সম্মানে আঘাত করা উচিত নয়। সংসদের সদস্যদের এ বিষয়ে আরও যত্নশীল হওয়া প্রয়োজন।
এর আগে বুধবার প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে সংসদ সদস্য মিজানুর রহমান বলেন, ‘সংসদ সদস্যদের আবাসিক ফ্ল্যাটে এখনও পর্দা লাগানো হয়নি। পাশাপাশি ওয়াশিং মেশিন ও মাইক্রোওভেন দেওয়ার যে কথা ছিল, সেটিও বাস্তবায়ন হয়নি।’ তিনি স্পিকারের মাধ্যমে এসব সুবিধা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
তার ওই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দেয়। বৃহস্পতিবার সেই বিতর্কই সংসদে নতুন মাত্রা পায়।
তবে শেষ পর্যন্ত স্পিকার বিষয়টিকে অতিরিক্ত বিতর্কে না নিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সংসদ সদস্যদের আবাসনে প্রয়োজনীয় কিছু সুবিধা চাওয়া অস্বাভাবিক কোনো বিষয় নয় এবং এটি নিয়ে অনাবশ্যক রাজনৈতিক বিতর্ক সৃষ্টি করা উচিত হবে না।
মতামত দিন