সংকটের গুজবে জ্বালানি তেল কিনতে সারাদেশে হুড়োহুড়ি
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তার আশঙ্কা ছড়িয়ে পড়ায় দেশে তেলের আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। এর প্রভাবে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে যানবাহনের দীর্ঘ লাইন এবং যানজট দেখা দিয়েছে। কোথাও সীমিত পরিমাণে তেল বিক্রি হচ্ছে, কোথাও মজুদ শেষ হয়ে সাময়িকভাবে পাম্প বন্ধ রাখতে হয়েছে। কিছু জায়গায় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষ ও চালকদের মধ্যে তর্কবিতর্ক ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে।
রাজধানীর ফিলিং স্টেশনে ছুটির দিনেও গাড়ির লাইন পাম্প থেকে মূল রাস্তা পর্যন্ত দেখা গেছে। একজন উবার চালক মো. রবিউল ইসলাম জানান, প্রায় এক ঘণ্টা ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন, সামনে আরও ৫০টির মতো গাড়ি রয়েছে। দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়ানোর কারণে তিনি কয়েকটি ভাড়া হারিয়েছেন। মোটরসাইকেল চালক জসীম উদ্দিনও বলেন, প্রায় এক ঘণ্টা অপেক্ষা করে মাত্র দুই লিটার তেল পেয়েছেন।
জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এবং প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত শুক্রবার (৬ মার্চ) রাজধানীর বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন পরিদর্শন করেন। এ সময় তারা জানিয়েছেন, দেশে তেলের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে এবং সরবরাহ স্বাভাবিক। জনগণকে অহেতুক আতঙ্ক না ছড়াতে এবং বাড়তি তেল মজুত না করতে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
পরিস্থিতি সামলাতে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) প্রতিদিনের তেল সরবরাহে কোটা নির্ধারণ করেছে। মোটরসাইকেলের জন্য দৈনিক সর্বোচ্চ ২ লিটার, ব্যক্তিগত গাড়ির জন্য ১০ লিটার পেট্রোল বা অকটেন সরবরাহ করা হবে। জিপ ও মাইক্রোবাসে ২০-২৫ লিটার, পিকআপ ও লোকাল বাসে ৭০-৮০ লিটার এবং দূরপাল্লার বাস, ট্রাক ও কনটেইনারে ২০০-২২০ লিটার ডিজেল দেওয়া হবে। ফিলিং স্টেশনগুলোকে বিক্রির সময়, পরিমাণ ও মূল্য উল্লেখ করে নগদ স্মারক দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছে বিপিসি।
বিপিসি সূত্র জানায়, ১-৪ মার্চ দেশে ৯৫ হাজার টন ডিজেল বিক্রি হয়েছে, যেখানে গত বছরের একই সময়ে বিক্রি হয়েছিল ৪৫ হাজার টন। এছাড়া অকটেন ও পেট্রোলের বিক্রিও বেড়েছে। তেলের এই চাপের মূল কারণ আতঙ্কজনিত অতিরিক্ত চাহিদা। অনেকেই প্রয়োজনের চেয়ে বেশি তেল কিনে মজুত রাখার চেষ্টা করছেন, যা সাময়িকভাবে সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত করছে।
সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। যশোর ও হবিগঞ্জ সীমান্তে অতিরিক্ত টহল দেওয়া হচ্ছে এবং গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অস্থায়ী চেকপোস্ট বসিয়ে যানবাহন তল্লাশি করা হচ্ছে। তেলের প্রকৃত ঘাটতির চেয়ে আতঙ্কজনিত চাহিদা বেশি চাপ সৃষ্টি করছে বলে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে