বরেন্দ্র জনপদের জল ও জীবনের নিরাপত্তার দাবিতে ‘পানিবন্ধন’
খরাপ্রবণ বরেন্দ্র জনপদের জল ও জীবনের নিরাপত্তায় পানি ব্যবস্থাপনায় সুশাসনসহ গ্রাম ও শহরের ভূ-উপরস্থ জলাধার সুরক্ষা এবং তাতে প্রান্তিক মানুষের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার দাবিতে রাজশাহীতে ‘পানিবন্ধন’ হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২১ মার্চ) সকালে রাজশাহী শহরের সাহেব বাজার জিরোপয়েন্ট এলাকায় বিশ্ব পানি দিবস উপলক্ষ্যে বরেন্দ্র ইয়ুথ ফোরাম, বরেন্দ্র রিসার্স এন্ড অ্যাডভোকেসি সোসাইটি ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান বারসিকের যৌথ আয়োজনে এ পানিবন্ধন হয়।
পানিবন্ধনে বরেন্দ্র ইয়ুথ ফোরামের সভাপতি শাইখ তাসনীম জামালের সভাপতিত্বে ও যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক আতিকুর রহমান আতিকের সঞ্চালনায় এসময় বক্তরা আলোচনা করেন। এসময় তারা আট দফা দাবি তুলে ধরা হয়। এছাড়াও রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার এবং জেলা প্রশাসক বরাবার দাবি সম্মলিত পৃথক স্মারকলিপি প্রদান করেন তারা।
দাবিগুলো হলো, ২০১৪ সালে জনস্বার্থে হাইকোর্টে একটি রিট মামলা দায়ের করলে জেলা প্রশাসন ৯৫২টি পুকুরের তালিকা করে এবং সেই অনুপাতে হাইকোর্ট পুকুরগুলো সংরক্ষণসহ পুকুরগুলো যাতে অরিজিনাল থাকে তাও নিশ্চিত করতে বলেছেন, একইসাথে রাজশাহীতে অনেক পুরাতন সুকান দিঘি দখলকৃত অংশ পূণরুদ্ধার ও পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে এনে সংরক্ষণের নির্দেশ দেন। উক্ত হাইকোর্টের নির্দেশ যথাযথ বাস্তবায়ন করতে হবে; বরেন্দ্র অঞ্চলের গ্রাম ভিত্তিক খাস/সরকারি প্রতিটি পুকুর/দিঘি সেই গ্রামের মানুষের ব্যবহারের জন্য শর্তবিহীন এবং জামানতবিহীন আজীবনের জন্য লিজ দিতে হবে। পুকুর/দিঘিগুলো পূণঃসংষ্কার করে দিতে হবে; বরেন্দ্র ডিপ ব্যবস্থাপনায় পানি বন্টন বৈষম্য নীতি পরিহার করে সরাসরি কৃষকদের পরিচালনা করতে দিতে হবে। প্রভাবশালীদের নিয়ন্ত্রণ বন্ধ করতে হবে; বরেন্দ্র অঞ্চলের প্রতিটি গ্রামে সুপেয় পানির ব্যবস্থা করতে হবে; বরেন্দ্র অঞ্চলের প্রাকৃতিক জলাশয়/জলাধারগুলো পূণঃসংস্কার এবং তা লিজ বাতিল করে জনসাধারণের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করে দিতে হবে; ভুগর্ভস্থ পানির উত্তোলন কমিয়ে ভু-উপরোন্থ পানি ব্যবহার এবং সেই সুবিধাগুলো সৃষ্টি করে দিতে হবে; বরেন্দ্র অঞ্চলের বৈচিত্র্য ও পরিবেশ সুরক্ষায় উচুঁ-নীচু বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন ভূমি কর্তন/সমান করা বন্ধ করাসহ বড় বড় বৃক্ষগুলো সুরক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। বৃক্ষনিধন বন্ধ করতে হবে; খরা এবং দুর্যোগের কারনে শস্য ফসলসহ গবাদি পশুপাখির ক্ষতি পূরণ দিতে হবে। খরাকালিন কাজের অভাবে প্রান্তিক আদিবাসী ও অন্যান্য শ্রমজীবী মানুষের জন্য মৌসুমী খরা ভাতা চালু করতে হবে।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে