লোডশেডিং নিয়ে ভিডিও: চাকরি হারালেন পল্লী বিদ্যুতের লাইনম্যান
লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ গ্রাহকদের দুর্ভোগের চিত্র তুলে ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও প্রকাশ করায় মাদারীপুরে পল্লী বিদ্যুতের এক লাইনম্যানকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। চাকরিচ্যুত সুমন হোসেন দাবি করেছেন, বিদ্যুৎ নিয়ে গ্রাহকদের ক্ষোভ যেন স্থানীয় বিদ্যুৎ কার্যালয় কিংবা মাঠপর্যায়ের কর্মীদের ওপর হামলায় না গড়ায়, সে বিষয়ে সচেতনতা তৈরির উদ্দেশ্যেই তিনি ভিডিওগুলো প্রকাশ করেছিলেন।
ঘটনাটি মাদারীপুর সদর উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের মিঠাপুর এলাকার। সুমন হোসেন মিঠাপুর জোনে লাইনম্যান গ্রেড-২ পদে কর্মরত ছিলেন। বিভিন্ন সময়ে দেশের বিদ্যুৎ পরিস্থিতি ও লোডশেডিং নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও প্রকাশ করতেন তিনি। এসব ভিডিও নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হলে বিষয়টি পল্লী বিদ্যুতের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নজরে আসে।
চাকরি হারানোর পর নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে লিখিত বক্তব্য দিয়েছেন সুমন হোসেন। তার দাবি, দেশের বিভিন্ন স্থানে লোডশেডিংকে কেন্দ্র করে বিদ্যুৎ অফিসে হামলা, ভাঙচুর ও কর্মীদের ওপর হামলার খবর পাওয়া যাচ্ছিল। মিঠাপুরেও যাতে এমন পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সে চিন্তা থেকেই তিনি গ্রাহকদের দুর্ভোগের চিত্র তুলে ধরে ভিডিও করেছিলেন।
তবে মাদারীপুর পল্লী বিদ্যুতের জেনারেল ম্যানেজার সুশান্ত রায় বলেন, সুমন হোসেন মিঠাপুর জোনে লাইনম্যান হিসেবে কর্মরত ছিলেন। লোডশেডিং নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার বিভিন্ন ভিডিও প্রকাশের বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। এসব ভিডিওকে কেন্দ্র করে গ্রাহকদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরির অভিযোগ ওঠায় তাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
এদিকে সুমনের চাকরিচ্যুতির পাশাপাশি মাদারীপুরে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে গ্রাহকদের দুর্ভোগের বিষয়টিও সামনে এসেছে। তীব্র গরমের মধ্যে দিনের বিভিন্ন সময়ে বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় বিপাকে পড়ছেন শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ মানুষ। পাশাপাশি শিক্ষার্থী, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, কৃষক ও শ্রমজীবী মানুষের কাজেও এর প্রভাব পড়ছে।
বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহে অনিয়ম বেশি বলে অভিযোগ করেছেন গ্রাহকেরা। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় বাসাবাড়িতে গরমের কষ্ট বাড়ার পাশাপাশি ফ্রিজ, ফ্যান, পানির পাম্পসহ প্রয়োজনীয় বৈদ্যুতিক যন্ত্র চালানো যাচ্ছে না। এতে দৈনন্দিন জীবন ও কর্মযজ্ঞ ব্যাহত হচ্ছে।
মতামত দিন