Views Bangladesh Logo

‘ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি আদায়ের আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টায় নেতৃত্ব দিচ্ছে সৌদি আরব’

স্বাধীন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি অর্জনের মাধ্যমে ফিলিস্তিনি জনগণের অধিকার রক্ষায় সৌদি আরব আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টায় সক্রিয়ভাবে নেতৃত্ব দিচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত দেশটির রাষ্ট্রদূত এসা ইউসুফ এসা আল দুহাইলান।

তিনি বলেন, প্রয়োজনের সময় ধারাবাহিকভাবে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়েছে সৌদি আরব। দুই দেশের উজ্জ্বল ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যত নিশ্চিতের অভিন্ন লক্ষ্য অর্জনে সমর্থন ও সহযোগিতা অব্যাহত রাখারও প্রতিশ্রুতি দেন রাষ্ট্রদূত।

রাজকীয় সৌদি আরবের ৯৪তম জাতীয় দিবসে রোববার (২৯ সেপ্টেম্বর) ঢাকায় দূতাবাস প্রাঙ্গণের অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন রাষ্ট্রদূত দুহাইলান। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন।


রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘কয়েক দশক ধরে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, ক্রীড়া এবং সংস্কৃতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে পারষ্পরিক সহায়তায় বাংলাদেশ-সৌদি আরব সম্পর্কের বন্ধন আরও জোরদার হয়েছে। সৌদি আরবে এখন ৩.২ মিলিয়নেরও বেশি বাংলাদেশি অভিবাসী শ্রমিক কর্মরত, যা তাদেরকে বাংলাদেশের বাইরে বৃহত্তম প্রবাসী সম্প্রদায়ে পরিণত করেছে। তাদের অবদান উভয় দেশের অর্থনীতিতেও উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলেছে’।


রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘শুধু গত বছরই আমরা ১০ লাখের বেশি বাংলাদেশিকে ভিসা দিয়েছি এবং আরো ভিসা দেওয়ার প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে’।

তিনি বলেন, 'আমি আনন্দের সঙ্গে ঘোষণা করছি যে, এ বছর আমরা মক্কা রুটের মাধ্যমে ৮৫ হাজারেরও বেশি বাংলাদেশি হজযাত্রীর সফল হজের আয়োজন করেছি। উপরন্তু, চলতি বছরের ওমরাহ কোটা ৩৭ শতাংশ বেড়েছে এবং আমরা মোবাইল অ্যাপ নুসুকে হজযাত্রীদের বুকিং সহজ করেছি’।


দুহাইলান বলেন, ‘প্রয়াত বাদশাহ আবদুল আজিজের সময় থেকেই সৌদি আরব ফিলিস্তিনিদের পক্ষে অবিচল প্রবক্তা হিসেবে কাজ করে আসছে। ১৯৬৭ সালের সীমান্তের ভিত্তিতে পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দিয়ে ফিলিস্তিনি জনগণের অধিকার নিশ্চিতে আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টায় নেতৃত্ব দিচ্ছে। জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনেও দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান বাস্তবায়নে আন্তর্জাতিক জোট গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন প্রিন্স ফয়সাল আল ফারহান’।

‘সুদানে সংঘর্ষ এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে মধ্যস্থতা প্রচেষ্টায় সৌদি আরব বিশ্বস্ত অংশীদার হিসাবে স্বীকৃত, যা বিশ্ব শান্তি ও ন্যায়বিচারের প্রতি আমাদের দৃঢ় প্রতিশ্রুতিকে প্রতিফলিত করে’- যোগ করেন তিনি।

সৌদি আরবের সাম্প্রতিক উন্নয়নের উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত বলেন, প্রিন্স ফয়সাল আল ফারহান এবং প্রধানমন্ত্রী প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের নেতৃত্বে ভিশন ২০৩০ বাস্তবায়নের মাধ্যমে ইতিহাস এবং ভবিষ্যতের মেলবন্ধন রচনার গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে দাঁড়িয়ে আছে দেশটি।

‘এই রূপান্তরমূলক পরিকল্পনার লক্ষ্য কেবল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নয়, টেকসই উন্নয়ন, উদ্ভাবন এবং উল্লেখযোগ্য সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিবর্তন বৈশ্বিক নেতৃত্বকে উত্সাহিত করে ।

দুলাইহান বলেন, ‘এই দৃষ্টিভঙ্গির ফলাফলগুলোও ইতোমধ্যে স্পষ্ট। সৌদি পর্যটন খাত ৭৩ শতাংশ বেড়েছে। বেকারত্বের হার ৭.৬ শতাংশে নেমে ঐতিহাসিকভাবে সর্বনিম্নে পৌঁছেছে এবং ২০৩০ সালের মধ্যে পুন:নবায়নযোগ্য উত্স থেকে নিজস্ব চাহিদার ৫০ শতাংশ বিদ্যুৎ উত্পাদনের পথে রয়েছে।

রাষ্ট্রদূত বলেন, বিশ্বমঞ্চে সৌদি আরব এখনো প্রভাবশালী দেশ। জি-২০, ওপেক এবং ওপেক প্লাসের সক্রিয় সদস্য হিসেবে এবং ব্রিকসসহ অন্য আন্তর্জাতিক সংস্থায় যোগদানের আমন্ত্রণ পেয়ে বিশ্ব অর্থনীতি গঠন এবং শান্তি ও নিরাপত্তা প্রচারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।


এসা ইউসুফ এসা আল দুহাইলান জানান, কিং সালমান হিউম্যানিটারিয়ান এইড অ্যান্ড রিলিফ সেন্টারের মাধ্যমে ফিলিস্তিন, ইয়েমেন, বাংলাদেশ এবং অন্য আরব ও মুসলিম দেশগুলোসহ ১০২টি দেশকে সাত বিলিয়ন ডলারেরও বেশি সহায়তা দিয়েছে সৌদি আরব। হজ ও ওমরাহ, জনশক্তি এবং বহুমুখী মানবিক সহায়তাদানের ক্ষেত্রেও বহুমুখী নেতৃত্ব দিচ্ছে দেশটি ।

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ