'টেস্ট ক্রিকেটকে অসম্মান ও তাচ্ছিল্য করছে পাকিস্তান'
১১ মাস ধরে লাল বলের ক্রিকেটের বাইরে থাকা সাইম আইয়ুবকে হঠাৎ ইংল্যান্ডে উড়িয়ে এনে টেস্টে খেলানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে পাকিস্তান ক্রিকেটের নীতিনির্ধারকদের সমালোচনা করেছেন ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক ও ধারাভাষ্যকার নাসের হুসেইন।
তার মতে, এমন সিদ্ধান্তের মাধ্যমে টেস্ট ক্রিকেটের প্রতি অসম্মান ও তাচ্ছিল্য দেখিয়েছে পাকিস্তান।
সাইম আইয়ুব পাকিস্তানের হয়ে সবশেষ টেস্ট খেলেছিলেন গত বছরের জানুয়ারিতে। এরপর প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটেও তার সবশেষ ম্যাচ ছিল গত অক্টোবরে কায়েদ-ই-আজম ট্রফিতে। সাম্প্রতিক সময়ে তাকে মূলত সীমিত ওভারের ক্রিকেটার হিসেবেই দেখা হয়েছে।
ইংল্যান্ড সফরের মাঝপথে পাকিস্তান দলে বড় পরিবর্তন আসে। প্রথম দুই টেস্টে বাজেভাবে হারের পর প্রধান কোচ, বোলিং কোচ ও সাত ক্রিকেটারকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়। সেই পরিবর্তনের পর সাইমকে টেস্ট দলে ডাকা হয়। শুধু দলে নেওয়াই নয়, ওভালে তৃতীয় টেস্টে তাকে ওপেনিংয়ে নামানো হয়।
এর আগে সিপিএলে জ্যামাইকা কিংসমেনের হয়ে খেলছিলেন সাইম। প্রথম ম্যাচে ভালো করতে না পারলেও দ্বিতীয় ম্যাচে ৮ ছক্কায় ৫৮ বলে ১০২ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। টি-টোয়েন্টিতে সেটিই ছিল তার প্রথম সেঞ্চুরি। পরের ম্যাচেও অপরাজিত ২৪ রান করে দলের জয়ে ভূমিকা রাখেন। পুরো মৌসুমই সিপিএলে খেলার কথা ছিল তার। এর মধ্যেই টেস্ট দলের ডাক আসে।
ওভালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে ১০ বলে শূন্য রানে আউট হন সাইম। দ্বিতীয় ইনিংসে বৃহস্পতিবার ইনিংসের প্রথম বলেই ফিরে যান তিনি।
সাইমের আলগা শটের সমালোচনা করে স্কাই স্পোর্টসে নাসের হুসেইন বলেন, দীর্ঘ সময় ফিল্ডিং করার পর ব্যাটিংয়ে নেমে পূর্ণ মনোযোগ দিতে না পারার একটি উদাহরণ দেখা গেছে। তবে তার মতে, মূল প্রশ্ন হলো—সাইমের ওই পরিস্থিতিতে টেস্ট দলে থাকারই কথা ছিল না।
হুসেইন বলেন, গত ১১ মাসে সাইম প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট খেলেননি। মাত্র ১০ দিন আগেও তিনি সিপিএলে খেলছিলেন। এমন অবস্থায় ভিন্ন কন্ডিশন ও ভিন্ন সংস্করণ থেকে একজন ক্রিকেটারকে হঠাৎ ইংল্যান্ডে এনে ডিউক বল এবং অলি রবিনসনসহ ইংল্যান্ডের বোলিং আক্রমণের বিপক্ষে ভালো করার প্রত্যাশা করা কতটা যৌক্তিক, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।
হুসেইনের মতে, টেস্ট ক্রিকেটের চ্যালেঞ্জ ও চাহিদাকে গুরুত্ব দেয়নি পাকিস্তান। তিনি বলেন, টেস্ট ক্রিকেট সবচেয়ে কঠিন সংস্করণ এবং ইংল্যান্ডে টপ অর্ডারে ব্যাট করা এর অন্যতম কঠিন চ্যালেঞ্জ। অথচ পাকিস্তান যেন মনে করছে, বিশ্বের যেকোনো প্রান্ত থেকে একজন ক্রিকেটারকে উড়িয়ে এনে খেলালেই তিনি ভালো করতে পারবেন।
প্রথম দুই টেস্টে হারের পর ওভাল টেস্টেও কঠিন অবস্থায় রয়েছে পাকিস্তান। ইনিংস হার এড়াতে ইংল্যান্ডকে আবার ব্যাটিংয়ে নামাতে তাদের প্রয়োজন আরও ২৬৮ রান। হাতে রয়েছে আটটি উইকেট।
মতামত দিন