Views Bangladesh Logo

৪৩ মাসে পদ্মা সেতুতে টোল আদায় ৩ হাজার কোটি টাকা ছাড়াল

 VB  Desk

ভিবি ডেস্ক

০ হাজার কোটি টাকার বেশি ব্যয়ে নির্মিত দেশের দীর্ঘতম পদ্মা সেতু চালুর পর ৪৩ মাসে টোল বাবদ আয় ৩ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের ২৫ জুন সেতুটি উদ্বোধনের পর থেকে গত মঙ্গলবার পর্যন্ত এই বিপুল অঙ্কের টোল আদায় হয়েছে।

সেতু কর্তৃপক্ষ জানায়, মোটরসাইকেল, ব্যক্তিগত গাড়ি, বাস ও ট্রাকসহ সব ধরনের যানবাহনের জন্য নির্ধারিত হারে টোল আদায় করা হচ্ছে। বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২২ হাজার যানবাহন পদ্মা সেতু ব্যবহার করছে, যার বিপরীতে দৈনিক গড়ে আড়াই কোটি টাকা টোল আদায় হচ্ছে। শুধু গত ডিসেম্বর মাসেই টোল থেকে আয় হয়েছে প্রায় ৮২ কোটি টাকা।

মুন্সিগঞ্জ ও শরীয়তপুরকে সংযুক্তকারী পদ্মা সেতু দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানীর সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করেছে। এর ফলে বর্তমানে ওই অঞ্চলের ২১টি জেলার মানুষ সেতুটির সুবিধা পাচ্ছেন। সেতু চালুর পর থেকে যানবাহন চলাচল ও টোল আয় ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে জানিয়েছে সেতু কর্তৃপক্ষ।

কর্তৃপক্ষের মতে, পদ্মা সেতু চালু হওয়ায় যাতায়াতের সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে এবং দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। বিশেষ করে কৃষি, মৎস্য, প্রাণিসম্পদ ও শিল্পজাত পণ্য পরিবহনে এসেছে বড় ধরনের পরিবর্তন।

পদ্মা সেতুর মাওয়া ও জাজিরা টোল প্লাজায় ইলেকট্রনিক টোল কালেকশন (ইটিসি) ব্যবস্থা চালু রয়েছে। আরএফআইডি কার্ডের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে টোল আদায় হওয়ায় যানবাহনকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয় না।

সেতু কর্তৃপক্ষের পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে টোল আদায়ের এই ‘মাইলফলক’ অর্জনে যানবাহনের মালিক, চালক, শ্রমিক, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য এবং সেতুর পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণে যুক্ত সব পক্ষকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানানো হয়েছে।

পদ্মা সেতু প্রকল্পে মোট ব্যয় হয়েছে ৩০ হাজার ৭৭০ কোটি টাকা। ২০০৭ সালে প্রকল্প নেওয়ার সময় ব্যয় ধরা হয়েছিল প্রায় ১০ হাজার ১৬২ কোটি টাকা, যা পরবর্তীতে একাধিক সংশোধনের ফলে বৃদ্ধি পায়। নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়িত এই প্রকল্পে অর্থ মন্ত্রণালয় সেতু কর্তৃপক্ষকে ঋণ হিসেবে অর্থ দিয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী, ৩৫ বছরে ১ শতাংশ সুদে এই ঋণ ১৪০টি কিস্তিতে পরিশোধ করার কথা রয়েছে।

সেতু বিভাগ সূত্র জানায়, টোল থেকে আদায়কৃত অর্থের ১৫ শতাংশ ভ্যাট হিসেবে সরকারি কোষাগারে জমা হয়। এরপর টোল আদায়ের দায়িত্বে থাকা ঠিকাদারকে অর্থ পরিশোধ করা হয়। পাঁচ বছরের জন্য কোরিয়া এক্সপ্রেসওয়েকে ৬৯৩ কোটি টাকায় নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতের ব্যয়ও বহন করতে হয়। এসব ব্যয় বাদ দিয়ে অবশিষ্ট অর্থ থেকেই অর্থ মন্ত্রণালয়ের ঋণের কিস্তি পরিশোধ করা হচ্ছে।

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ