যাত্রী কল্যাণ সমিতির হিসাব নিয়ে মালিক-শ্রমিকদের ক্ষোভ
ঈদকে সামনে রেখে বাসে প্রায় ১৪৮ কোটি টাকা অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন’ ও ‘বিভ্রান্তিকর’ বলে দাবি করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক-শ্রমিক সমন্বয় পরিষদ।
শুক্রবার রাজধানীর পরীবাগে এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব সাইফুল আলম বলেন, যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরীর দেওয়া এই তথ্য অসত্য, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং কাল্পনিক।
তিনি বলেন, ‘এ ধরনের বক্তব্য দেশবাসীকে বিভ্রান্ত করছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’ একই সঙ্গে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এ দাবির পক্ষে প্রমাণ উপস্থাপনের আহ্বান জানান তিনি। অন্যথায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলেন।
এর আগে যাত্রী কল্যাণ সমিতি দাবি করে, ঈদযাত্রায় দূরপাল্লার বাসে ৪০ লাখ ট্রিপ যাত্রীর ৮৭ শতাংশকে গড়ে ৩৫০ টাকা করে অতিরিক্ত ভাড়া দিতে হচ্ছে, যা মোট প্রায় ১২১ কোটি ৮০ লাখ টাকা। এছাড়া নগর পরিবহনে ৬০ লাখ ট্রিপ যাত্রীর কাছ থেকে গড়ে ৫০ টাকা করে নেওয়ায় আরও প্রায় ২৬ কোটি ১০ লাখ টাকা অতিরিক্ত আদায় হচ্ছে। সব মিলিয়ে এ সংখ্যা প্রায় ১৪৮ কোটি টাকা।
এ বিষয়ে পরিবহন মালিকদের দাবি, টার্মিনালের বাইরে কিছু অবৈধ কাউন্টার থেকে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হতে পারে, তবে এগুলো বৈধ পরিবহনের অংশ নয়।
বাংলাদেশ বাস-ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা জানান, বাইপাইল এলাকায় পরিচালিত এক অভিযানে ২০০টির মধ্যে ১৫০টি কাউন্টার অবৈধ পাওয়া গেছে। এসব কাউন্টারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও অভিযান অব্যাহত থাকবে।
তারা আরও বলেন, কিছু অসাধু ব্যক্তি প্রতিষ্ঠিত পরিবহনের নাম ব্যবহার করে প্রতারণা করছে। এদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব সাইফুল আলম, বাংলাদেশ বাস-ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি জি আর শহীদ।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে