Views Bangladesh Logo

সাড়ে ছয় বছরে ৬২ লাখ এনআইডি সংশোধন, ঝুলে আছে প্রায় দেড় লাখ আবেদন

জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংশোধনের আবেদন নিষ্পত্তিতে বড় অগ্রগতি দেখিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। গত সাড়ে ছয় বছরে ৬২ লাখের বেশি আবেদন নিষ্পত্তি হলেও এখনো প্রায় দেড় লাখ আবেদন চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আবেদন রয়েছে জটিল ‘ঘ’ ক্যাটাগরিতে।

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) এনআইডি অনুবিভাগের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। ইসির কার্ড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের (সিএমএস) তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সাল থেকে চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত এনআইডি সংশোধনের জন্য মোট ৬৩ লাখ ৭৮ হাজার ৩৭০টি আবেদন জমা পড়েছে। সে হিসাবে প্রতি বছর গড়ে প্রায় ৯ লাখ ৮১ হাজার এবং প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২ হাজার ৬৮৮টি আবেদন গ্রহণ করেছে কমিশন।

এসব আবেদনের মধ্যে ৬২ লাখ ৩০ হাজার ৫৯২টি নিষ্পত্তি করা হয়েছে। এর মধ্যে ৪৯ লাখ ৩৫ হাজার ১৩৮টি আবেদন অনুমোদন পেয়েছে, আর ১২ লাখ ৯৫ হাজার ৪৫৪টি আবেদন বাতিল করা হয়েছে। বর্তমানে ১ লাখ ৪৭ হাজার ৭৭৮টি আবেদন এখনো নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে। এনআইডি সংশোধনের আবেদন চারটি প্রধান ক্যাটাগরিতে নিষ্পত্তি করা হয়। ‘ক’ ক্যাটাগরিতে ব্যক্তি ও বাবা-মায়ের নামের বানান সংশোধন, ‘ক-১’ ক্যাটাগরিতে শিক্ষাসনদের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নামের অংশ সংযোজন, ‘খ-১’ ক্যাটাগরিতে বৈবাহিক অবস্থার পরিবর্তন এবং ‘খ’ ক্যাটাগরিতে ছবি ও স্বাক্ষর সংশোধনের কাজ করা হয়। এছাড়া ‘গ’ ক্যাটাগরিতে ব্যক্তি ও বাবা-মায়ের পুরো নাম পরিবর্তন এবং ‘ঘ’ ক্যাটাগরিতে বয়স, জন্মতারিখ ও বাবা-মায়ের পরিচয়সংক্রান্ত মৌলিক পরিবর্তনের আবেদন নিষ্পত্তি করা হয়।

ইসি কর্মকর্তাদের মতে, ‘ক’, ‘খ’ ও ‘গ’ ক্যাটাগরির আবেদন মাঠপর্যায়ের নির্বাচন কর্মকর্তারা নিষ্পত্তি করেন। তবে সবচেয়ে জটিল ‘ঘ’ ক্যাটাগরির আবেদন নিষ্পত্তির দায়িত্ব এনআইডি অনুবিভাগের মহাপরিচালকের (ডিজি)। বর্তমানে ঝুলে থাকা আবেদনগুলোর মধ্যে ৭৮ হাজার ৭৭৮টিই এই ক্যাটাগরির। এছাড়া ‘ক’ ক্যাটাগরিতে ১৯ হাজার ৪৩৩টি এবং ‘খ’ ক্যাটাগরিতে ২৫ হাজার ৪১০টি আবেদন পেন্ডিং রয়েছে।

এনআইডি নিবন্ধন অনুবিভাগের পরিচালক (অপারেশনস) মো. সাইফুল ইসলাম জানান, অধিকাংশ ঝুলে থাকা আবেদন জটিল তথ্য সংশোধনসংক্রান্ত। অনেক ক্ষেত্রে আবেদনকারীর চাওয়া সংশোধন বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। যেমন, সংশোধনের পর বাবা-মা ও সন্তানের বয়সের ব্যবধান মাত্র ৮ থেকে ১০ বছর দাঁড়ায়, যা গ্রহণযোগ্য নয়। আবার অনেক আবেদনকারী একই ধরনের আবেদন বারবার অনলাইনে জমা দেওয়ায় পেন্ডিং আবেদন বাড়ছে।

তিনি বলেন, চাকরি, বিদেশযাত্রা কিংবা অন্য কোনো জরুরি প্রয়োজনের বিষয়টি উল্লেখ থাকলে মানবিক বিবেচনায় এসব আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে অসত্য তথ্য বা অযৌক্তিক দাবির ভিত্তিতে করা আবেদন সরাসরি বাতিল করা হচ্ছে।

এদিকে, ঝুলে থাকা জটিল আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে গত ১৬ জুলাই চার সদস্যের একটি বিশেষ কমিটি গঠন করেছে নির্বাচন কমিশন। এনআইডি অনুবিভাগের সহকারী পরিচালক হাবিবা আখতার স্বাক্ষরিত আদেশে জানানো হয়, কমিটিতে একজন পরিচালক, একজন উপপরিচালক এবং দুজন সহকারী পরিচালক রয়েছেন।

এই কমিটি জটিল আবেদন যাচাই-বাছাই, প্রয়োজনীয় প্রমাণ মূল্যায়ন, অপর্যাপ্ত তথ্যের আবেদন বাতিল, কার্ড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (সিএমএস) উন্নয়ন এবং এনআইডি লক, আনলক ও রোলব্যাকসংক্রান্ত বিষয়ে সুপারিশ প্রদান করবে, যাতে আবেদন নিষ্পত্তির গতি আরও বাড়ানো যায়।

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ