ঈশ্বরদীতে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে অর্ধশতাধিক আহত
পাবনার ঈশ্বরদীতে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের দুই গ্রুপের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষে পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন।
সোমবার (২৩ মার্চ) দুপুর ১২টা থেকে শুরু হওয়া এ সংঘর্ষ কয়েক ঘণ্টা ধরে চলে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব ও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সদস্য সচিব মেহেদী হাসানের সমর্থকদের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ থেকেই এ সংঘর্ষের সূত্রপাত।
এর আগে ঈদুল ফিতরের দিন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ইমরুল কায়েস সুমন, যুবদল নেতা শ্যামলসহ কয়েকজনকে মারধর, অফিস ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ ওঠে। ওই ঘটনার প্রতিবাদ ও বিচার দাবিতে সোমবার সকালে দুই গ্রুপ পৃথকভাবে পোস্ট অফিস মোড় ও বাসস্ট্যান্ড এলাকায় সংবাদ সম্মেলন করে।
সংবাদ সম্মেলন শেষে বিক্ষোভ মিছিল বের করলে রেলগেট ও পোস্ট অফিস মোড় এলাকায় দুই পক্ষ মুখোমুখি হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, একপর্যায়ে উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্র, লাঠিসোঁটা ও ইটপাটকেল নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। পরে গোলাগুলির ঘটনাও ঘটে, যা এলাকায় চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করে।
সংঘর্ষ চলাকালে বেশ কয়েকটি মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ করা হয় এবং দলীয় কার্যালয় ভাঙচুর করা হয়। পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করলে শহরের দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায় এবং সাধারণ মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ে ছুটতে থাকে।
প্রাথমিকভাবে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হলে পরে অতিরিক্ত পুলিশ ও সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়। কয়েক ঘণ্টার চেষ্টায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে কয়েকজন পুলিশ সদস্যও আহত হন।
ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মমিনুজ্জামান জানান, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে এ সংঘর্ষ হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও শহরজুড়ে অতিরিক্ত নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
আহতদের মধ্যে অন্তত ৫০ জন নেতাকর্মী ও পথচারী রয়েছেন। তাদের ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। গুরুতর আহতদের পাবনা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এদের মধ্যে ঈশ্বরদী পৌর যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক মোস্তফা নূরে আলম শ্যামলকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
এ ঘটনায় হাবিবুর রহমান হাবিব অভিযোগ করে বলেন, দলের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে উশৃঙ্খল একটি গ্রুপ হামলা চালিয়ে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করেছে। তবে অপর পক্ষের বক্তব্য জানা যায়নি।
বর্তমানে পুরো ঈশ্বরদী শহরে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে