বিশ্বজুড়ে ১০ বছরে সাড়ে ৪ হাজারেরও বেশি শিশু অভিবাসীর মৃত্যু: আইওএম
উন্নত জীবন ও নিরাপত্তার আশায় ঝুঁকিপূর্ণ পথে অভিবাসনের চেষ্টা করতে গিয়ে গত এক দশকে বিশ্বজুড়ে অন্তত ৪ হাজার ৪১৪ শিশুর মৃত্যু বা নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা নথিভুক্ত করেছে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)। সংস্থাটি বলছে, তথ্যের ঘাটতি এবং বহু ঘটনা নথিভুক্ত না হওয়ায় প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) প্রকাশিত আইওএমের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। সংস্থাটির নিখোঁজ অভিবাসী প্রকল্পের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪ সাল থেকে বিভিন্ন অভিবাসন রুটে এসব শিশু নিখোঁজ বা প্রাণ হারিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শিশু অভিবাসীদের জন্য সবচেয়ে বিপজ্জনক পথগুলোর একটি ভূমধ্যসাগরীয় রুট। উত্তর আফ্রিকা থেকে সমুদ্রপথে ইউরোপে যাওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে দুই হাজারের বেশি শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্তসহ আমেরিকা অঞ্চলে অভিবাসনের চেষ্টাকালে অন্তত ৮৫০ শিশুর মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে।
আফ্রিকার সাহারা মরুভূমি ও হর্ন অব আফ্রিকা অঞ্চলের দুর্গম পথ পাড়ি দিতে গিয়েও বহু শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তীব্র গরম, পানিশূন্যতা ও অনাহারের পাশাপাশি অনিরাপদ নৌযানে সমুদ্র পাড়ি দেওয়া এবং মানব পাচারকারীদের সহিংসতা এসব মৃত্যুর অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
আইওএম ও জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফের উদ্বেগের বড় কারণ হলো, বহু মৃত বা নিখোঁজ শিশুর পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয় না। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত এক দশকে বিশ্বজুড়ে অভিবাসনপথে প্রায় ৮১ হাজার মানুষের মৃত্যু বা নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৪৪ হাজার ৮৬২টি ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বয়স সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে এসব ঘটনার মধ্যে কতজন শিশু ছিল, তা নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, যেসব শিশুর বয়স শনাক্ত করা গেছে, তাদের মধ্যে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুও রয়েছে। লিঙ্গ শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে—এমন নথিভুক্ত মৃত্যুর ঘটনায় ছেলেশিশুর অনুপাত তুলনামূলক বেশি। তবে বিপুলসংখ্যক ঘটনার ক্ষেত্রে বয়স ও লিঙ্গের তথ্য না থাকায় প্রকৃত চিত্র নির্ধারণ করা কঠিন।
আইওএমের মতে, নিরাপদ ও বৈধ অভিবাসনের সুযোগ সীমিত থাকায় শিশুদেরও বিপজ্জনক পথে যাত্রা করতে হচ্ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংস্থাটি নিরাপদ অভিবাসনপথ নিশ্চিত করা, উদ্ধার কার্যক্রম জোরদার এবং মানব পাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। শিশুদের সুরক্ষায় দেশগুলোর মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
মতামত দিন