ময়মনসিংহে প্রতিদিন ৩০০ মেগাওয়াট লোডশেডিং, দিশেহারা জনজীবন
ময়মনসিংহ অঞ্চলে প্রতিদিন বিদ্যুতের ৩ শতাধিক মেগাওয়াট লোডশেডিংয়ের প্রভাবে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন গ্রাহকরা। শহর এলাকায় কিছুটা বিদ্যুৎ মিললেও গ্রামাঞ্চলের মানুষরা অনেকটাই বিদ্যুৎহীন।
স্থানীয় বিদ্যুৎ বিভাগ জানিয়েছে, সারাদেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন হ্রাস পাওয়া ও সরবরাহ কম থাকায় আনুপাতিক হারে ময়মনসিংহেও লোডশেডিং হচ্ছে।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড ময়মনসিংহ অঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী মোঃ এমদাদুল হক জানান, বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলোতে উৎপাদন ক্ষমতা হ্রাস পাওয়ায় সারাদেশের মতো ময়মনসিংহেও লোডশেডিংয়ের মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে।
তিনি জানান, গ্যাস সরবরাহ হ্রাস পাওয়ায় শম্ভুগঞ্জ রুরাল পাওয়ার কোম্পানি (আরপিসিএল) থেকে ২১০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা থাকলেও সেখান থেকে গড়ে মাত্র ৭ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যায়। জামালপুরে ইউনাইটেড-এর দুটি পাওয়ার প্লান্টে ৩১৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা থাকলেও সেখান থেকে পাওয়া যায় মাত্র ১৩০ মেগাওয়াট। এছাড়া সুতিয়াখালীতে সোলার পাওয়ার প্লান্টে ৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা থাকলেও সেখান থেকে দিনের বেলায় ২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যায়।
এদিকে গত বুধবার (১১ সেপ্টেম্বর) পিক আওয়ারে তথ্যানুযায়ী ময়মনসিংহ অঞ্চলে ১৩৫০ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে এক হাজার ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়া যায়। তাতে তিন শতাধিক মেগাওয়াট লোডশেডিং দেওয়া হয়।
বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড জোনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোঃ রেজাউল করিম জানান, ময়মনসিংহের জোনের অধীনে দশটি জেলার মধ্যে ময়মনসিংহ বিভাগের জামালপুর শেরপুর ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনাসহ ৪টি জেলা, টাঙ্গাইল জেলার ৫টি উপজেলা, সুনামগঞ্জ জেলার ২টি। উপজেলা, কুড়িগ্রাম জেলার ২টি উপজেলা এবং কুড়িগ্রামের চিলমারী, গাইবান্ধার সদর, ফুলছড়ি ও সাঘাটা, বগুড়ার সারিয়াকান্দি, সিরাজগঞ্জ সদর ও কাজিপুর উপজেলার আংশিক এলাকায় পিক চাহিদা এক হাজার মেগাওয়াট তার বিপরীতে ৭০০ মেগাওয়াটের মত বিদ্যুৎ পাওয়া যায়। এতে করে প্রতিদিন ৩০০ মেগাওয়াট করে লোডশেডিং দেওয়া হচ্ছে।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে