Views Bangladesh Logo

গুম হওয়া ব্যক্তিদের পরিবার ও উত্তরাধিকার সুরক্ষায় সংশোধিত অধ্যাদেশ জারি

 VB  Desk

ভিবি ডেস্ক

গুম হওয়া ব্যক্তিদের পরিবারের আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং উত্তরাধিকার সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে নতুন সংশোধিত অধ্যাদেশ জারি করেছে সরকার। আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের মুদ্রণ ও প্রকাশনা শাখা থেকে মঙ্গলবার (৫ জানুয়ারি) এ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। অধ্যাদেশটি গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়েছে।

বুধবার (৭ জানুয়ারি) আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পাবলিক রিলেশন অফিসার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

সংশোধিত বিধান অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি কমপক্ষে পাঁচ বছর গুম থাকলে এবং জীবিত ফিরে না এলে, ট্রাইব্যুনাল তার সম্পত্তি বৈধ উত্তরাধিকারীদের মধ্যে বণ্টনের ঘোষণা দিতে পারবে। পাশাপাশি, গুম হওয়া ব্যক্তির স্ত্রী বা নির্ভরশীল সদস্যদের আইনি কার্যক্রম শুরু করতে আর কমিশনের পূর্বানুমতির প্রয়োজন হবে না।

নতুন অধ্যাদেশটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ, ২০২৫ সংশোধনকল্পে প্রণীত অধ্যাদেশ, ২০২৬’। এটি অবিলম্বে কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অধ্যাদেশের ২৩ ধারার সংশোধনী অনুযায়ী, ‘দ্য এভিডিয়েন্স অ্যাক্ট, ১৮৭২’-এর ১০৮ ধারায় সাত বছর নিখোঁজ থাকার যে বিধান রয়েছে, তা সত্ত্বেও এই আইনের আওতায় কোনো ব্যক্তি পাঁচ বছর গুম থাকলে তার উত্তরাধিকারীরা ট্রাইব্যুনালে সম্পত্তির অধিকার চেয়ে আবেদন করতে পারবেন। আবেদনের সত্যতা যাচাই করে ট্রাইব্যুনাল সম্পত্তি বণ্টনের আদেশ দিতে পারবে। প্রবিধান প্রণয়ন না হওয়া পর্যন্ত আবেদন পদ্ধতি ট্রাইব্যুনাল নিজেই নির্ধারণ করবে।

সংশোধিত অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, ট্রাইব্যুনালে অভিযোগকারীর পক্ষে মামলা পরিচালনার জন্য কমিশনের সুপারিশে প্রয়োজনীয় সংখ্যক পাবলিক প্রসিকিউটর নিয়োগ দেবে সরকার। কমিশন না থাকলে বা জরুরি প্রয়োজনে সরকার সরাসরি পাবলিক প্রসিকিউটর নিয়োগ কিংবা জেলা ও মহানগর পর্যায়ের পিপি বা অতিরিক্ত পিপিদের ট্রাইব্যুনালের অতিরিক্ত দায়িত্ব দিতে পারবে। একই সঙ্গে ভুক্তভোগীর পক্ষে ব্যক্তিগত আইনজীবী নিয়োগের অধিকার বহাল থাকবে।


নতুন সংশোধনীতে গুম হওয়া ব্যক্তির স্ত্রী ও নির্ভরশীল সদস্যদের জন্য আইনি সুরক্ষা আরও সহজ করা হয়েছে। মামলা দায়ের বা কার্যধারা শুরুর ক্ষেত্রে কমিশনের অনুমতির বাধ্যবাধকতা বাতিল করা হয়েছে। তবে, প্রয়োজনে ট্রাইব্যুনাল কমিশনের কাছ থেকে তদন্ত প্রতিবেদন চাইতে পারবে।

অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৪ সালে গঠিত তদন্ত কমিশনের অনুসন্ধান প্রতিবেদনে অথবা এই অধ্যাদেশ ও ‘ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস (ট্রাইব্যুনালস) অ্যাক্ট, ১৯৭৩’-এর আওতায় দায়ের করা মামলায় যাদের গুম হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং ট্রাইব্যুনালের আদেশের আগ পর্যন্ত যারা জীবিত ফিরে আসেননি, তারাই এই আইনের অধীনে ‘গুম হওয়া ব্যক্তি’ হিসেবে গণ্য হবেন।

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ