Views Bangladesh Logo

অপ্রতিমের মাথায় গুরুতর আঘাত ও শরীরে জখমের চিহ্ন মিলেছে: পুলিশ

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. নাহিদা বেগমের ছেলে স্কুলছাত্র ইশিয়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের মরদেহে মাথায় গুরুতর আঘাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখমের চিহ্ন পাওয়া গেছে। সুরতহাল প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, মাথায় আঘাত করেই ১৩ বছর বয়সী অপ্রতিমকে হত্যা করা হয়েছে।

সদর দক্ষিণ মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সাইফুল ইসলাম মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেন। শনিবার রাতে তিনি জানান, অপ্রতিমের মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ওই আঘাতেই তার মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। শরীরের অন্যান্য স্থানেও ছোটখাটো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।

ময়নাতদন্তে অংশ নেওয়া এক চিকিৎসক জানান, প্রাথমিকভাবে মাথায় আঘাতের কারণে মৃত্যুর বিষয়টি ধারণা করা হচ্ছে। তবে অপ্রতিমকে শ্বাসরোধ করা হয়েছিল কি না কিংবা হত্যার আগে তাকে কোনো চেতনানাশক পদার্থ খাওয়ানো হয়েছিল কি না, তা নিশ্চিত হতে মরদেহ থেকে প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।

এদিকে অপ্রতিম হত্যার ঘটনায় আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। সদর দক্ষিণ মডেল থানার ওসি রকিবুল ইসলাম বলেন, ডিবি ও এসআরবির হেফাজতে থাকা ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে এ মুহূর্তে বিস্তারিত জানানো সম্ভব নয়। অপ্রতিমের পরিবারের পক্ষ থেকে রোববার মামলা করা হবে বলেও জানান তিনি।

তবে কুমিল্লা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) ওসি মোহাম্মদ শামসুল আলম শাহ শনিবার রাতে দাবি করেন, স্কুলছাত্র হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের আটক করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, রোববার পুলিশ সুপার সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিস্তারিত তথ্য জানাবেন।

এর আগে শনিবার দুপুরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন লালমাই সানন্দা পাহাড় এলাকার একটি জঙ্গল থেকে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশের ধারণা, তার মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যেই হত্যাকাণ্ডটি ঘটানো হতে পারে। সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে প্রথমে তুহিন নামে এক যুবককে আটক করা হয়। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আনাস ও ফাহিম আহমেদ নামে আরও দুজনকে আটক করা হয়।

অপ্রতিম কুমিল্লার স্থানীয় বর্ডারগার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে বাসা থেকে বের হওয়ার পর সে নিখোঁজ হয়। পরে তার বাবা ব্যবসায়ী কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার সদর দক্ষিণ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। প্রায় ২১ ঘণ্টা পর তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ