অপ্রতিম হত্যা: চার দাবিতে ১২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম কুবি শিক্ষার্থীদের
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ১৩ বছর বয়সী ছেলে অপ্রতিম হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে আয়োজিত কর্মসূচি থেকে হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার, বিচার নিশ্চিত এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়।
মানববন্ধনে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। এ সময় ‘অপ্রতিম হত্যার বিচার চাই’, ‘বিচার বিচার বিচার চাই’, ‘আমার ভাই মরলো কেন? প্রশাসন জবাব দে’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন তারা। শিক্ষার্থীরা বলেন, অপ্রতিম হত্যার ঘটনায় দ্রুত তদন্ত শেষ করে দায়ীদের আইনের আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে কুমিল্লা শহর ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দৃশ্যমান উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানান তারা।
কর্মসূচি থেকে শিক্ষার্থীরা প্রশাসনের কাছে চার দফা দাবি তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে, হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত করে ১২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্তের অগ্রগতি ও ঘটনার বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা। পাশাপাশি কুমিল্লা শহর ও আশপাশের এলাকায় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তায় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থতার দায় সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্বশীলদের স্বীকার করার দাবি জানানো হয়।
এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে শিক্ষার্থীদের জরুরি নিরাপত্তার জন্য স্থায়ী পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন তারা। অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডসহ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কুমিল্লা প্রশাসনকে ১২ ঘণ্টার মধ্যে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে শিক্ষার্থীরা বলেন, দাবি পূরণ না হলে মহাসড়ক ও বিশ্ববিদ্যালয়ে অবরোধসহ কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।
মানববন্ধনে কুবি শিক্ষার্থী হাসান অন্তর বলেন, ১২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্তে কী কী অগ্রগতি হয়েছে, তা শিক্ষার্থীদের সামনে জানাতে হবে। দৃশ্যমান পদক্ষেপ না নেওয়া হলে মহাসড়ক অবরোধের কর্মসূচিতে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তিনি। তার ভাষ্য, অপ্রতিমের মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের জন্য নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যেও নিরাপত্তাহীনতা ও ক্ষোভ তৈরি করেছে।
ঘটনার তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তোলেন হাসান অন্তর। তিনি বলেন, সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ এবং একজনকে আটক করার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের ভূমিকা রাখতে হয়েছে। ঘটনাস্থলে ফরেনসিক দলের পৌঁছাতেও সময় লেগেছে। তার প্রশ্ন, সকালে ঘটনা জানার পরও যদি গাড়ির সংকটের কারণে ফরেনসিক দল দ্রুত ঘটনাস্থলে যেতে না পারে, তাহলে প্রশাসনের দায়িত্ব কী ছিল।
আরেক শিক্ষার্থী বলেন, অপ্রতিম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের কাছে পরিচিত একটি শিশু ছিল। তাকে নিয়মিত খেলতে দেখেছেন তারা। তার মৃত্যু মেনে নেওয়া কঠিন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, ড. নাহিদা বেগম তাদের কাছে মাতৃতুল্য হওয়ায় এ ঘটনায় তাদের মধ্যে গভীর শোক ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
এর আগে শুক্রবার বিকেলে কোটবাড়ির বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় অপ্রতিম। পরে তার মোবাইল ফোনের সর্বশেষ অবস্থান কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন সামাজিক বনায়ন এলাকায় পাওয়া যায়। শনিবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা তাকে খুঁজতে বের হন। একপর্যায়ে স্থানীয় এক ব্যক্তির কাছ থেকে পাহাড়ের পাশে একটি শিশুর মরদেহ পড়ে থাকার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান তারা। পরে মরদেহটি অপ্রতিমের বলে শনাক্ত করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, শিশুটির মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ঘটনার কারণ ও জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে।
মতামত দিন