তৃতীয় অধিবেশনের প্রথম দিনেই বিরোধী দলের ওয়াকআউট
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের প্রথম দিনেই ওয়াকআউট করেছে বিরোধী দল। বৃহস্পতিবার রাত ৮টা ৬ মিনিটে বিরোধীদলীয় সদস্যরা সংসদ থেকে বেরিয়ে যান।
সরকার পরিপূর্ণ সংস্কারের পরিবর্তে আংশিক সংস্কারের পথে এগোচ্ছে—এমন অভিযোগ তুলে ওয়াকআউট করে বিরোধী দল। জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল এবং গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল উত্থাপনের সময় সংসদে না থাকার ঘোষণা দিয়ে তারা অধিবেশন থেকে বেরিয়ে যায়।
বেসরকারি সদস্যদের সিদ্ধান্ত প্রস্তাব নিষ্পত্তির পর আইনপ্রণয়ন কার্যক্রম শুরুর আগে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান পয়েন্ট অব অর্ডারে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ পান। তিনি জুলাই সনদ, সংবিধান সংস্কার পরিষদ এবং সংবিধান সংশোধনে গঠিত বিশেষ কমিটি নিয়ে কথা বলেন। এ সময় তিনি সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন না হওয়ায় কঠোর সমালোচনা করেন।
পরে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল ও গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল উত্থাপনের পর সংসদের কার্যক্রমে আর অংশ না নেওয়ার ঘোষণা দিয়ে শফিকুর রহমান ওয়াকআউট করেন। রাত ৮টা ৬ মিনিটে বিরোধী দলের সদস্যরা সংসদ থেকে বেরিয়ে যান। পরে তারা গণমাধ্যমকে এ বিষয়ে ব্রিফ করেন।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ১৩৩টি অধ্যাদেশ জারি হয়েছিল। নিয়ম অনুযায়ী, গত ১২ মার্চ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের প্রথম বৈঠকে এসব অধ্যাদেশ সংসদে উপস্থাপন করা হয়। এগুলো অনুমোদন বা অননুমোদনের শেষ সময় ছিল ১০ এপ্রিল।
তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ১৬টি অধ্যাদেশ বিল আকারে সংসদে আনা হয়নি। ফলে সেগুলো কার্যকারিতা হারায়। আরও সাতটি অধ্যাদেশ রহিতকরণ বিলের মাধ্যমে বাতিল করা হয়।
গুম প্রতিরোধ, পুলিশ কমিশন ও দুর্নীতি দমন কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশসহ যেসব অধ্যাদেশ নির্ধারিত সময়ে বিল আকারে আনা হয়নি, সেগুলো আরও যাচাই-বাছাই করে নতুন করে বিল আনার কথা জানিয়েছিল সরকার। এর মধ্যে ছিল গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ।
অন্যদিকে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন-সংক্রান্ত তিনটি অধ্যাদেশ রহিত করে ২০০৯ সালের জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন পুনঃপ্রচলনের জন্য প্রথম অধিবেশনে একটি বিল পাস করা হয়েছিল। তখন সরকার অধিকতর যাচাই-বাছাই করে আইনটি আরও শক্তিশালী করার কথা জানিয়েছিল।
এরই মধ্যে গত ৩ আগস্ট গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনের খসড়া এবং ১০ আগস্ট জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইনের খসড়া অনুমোদন করে মন্ত্রিসভা। খসড়া দুটি অনুমোদনের পর মানবাধিকারকর্মী, রাজনৈতিক দলসহ বিভিন্ন পক্ষ উদ্বেগ প্রকাশ করে। খসড়ার কয়েকটি বিষয় নিয়ে সমালোচনাও চলছে।
মতামত দিন