সবকিছুর বিরোধিতা কাম্য নয়: মাহদী আমিন
বিরোধী দলকে সবকিছুর বিরোধিতা না করে যৌক্তিক ও গঠনমূলক সমালোচনা করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন। তিনি বলেন, গণতন্ত্রে সমালোচনা থাকবে, তবে তা অবশ্যই যুক্তিনির্ভর ও গঠনমূলক হতে হবে। কোনোভাবেই মিথ্যা প্রচারণা ও চরিত্রহনন করা উচিত নয়।
শনিবার (২২ আগস্ট) রাজধানীর ইস্কাটনে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের (বিআইআইএসএস) মিলনায়তনে ‘গণঅভ্যুত্থান-উত্তর বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি কোন পথে’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।
মাহদী আমিন বলেন, রাজনৈতিক আদর্শ ভিন্ন হতে পারে। তবে দেশ, জনগণ ও জাতীয় স্বার্থে সবাইকে এক জায়গায় থাকতে হবে। গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে যে বৃহত্তর ঐক্য তৈরি হয়েছিল, সেই আকাঙ্ক্ষার জায়গায় আবার ফিরে যেতে হবে।
তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থানের সময় মানুষের প্রধান আকাঙ্ক্ষা ছিল মানবাধিকার ও বাক্স্বাধীনতা নিশ্চিত করা। গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশে সরকারকে জনগণের কাছে দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করতে হবে। গণতান্ত্রিক স্বার্থে সবাইকে এক জায়গায় থেকে অন্তর্ভুক্তিমূলক গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় কাজ করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে অন্তর্ভুক্তিমূলক নীতিনির্ধারণ প্রয়োজন। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও জাতীয় স্বার্থে ঐক্য বজায় রাখা জরুরি।
গোলটেবিল আলোচনায় সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল বলেন, বড় আকাঙ্ক্ষা নিয়ে সরকার পথচলা শুরু করেছে। গত ছয় মাসে সেই আকাঙ্ক্ষার কতটুকু পূরণ করা সম্ভব হয়েছে, তা জনগণই মূল্যায়ন করবে। রাজনীতিতে আগে যে প্রতিহিংসার চর্চা ছিল, তা পরিবর্তনের চেষ্টা করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, সরকার ১৮০ দিনের সময়সীমা নিয়ে কাজ করার চেষ্টা করছে। ভেঙে পড়া বাংলাদেশকে একটি টেকসই ও মানবিক দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, বর্তমান সরকারের গত ছয় মাসে গুম, নির্যাতনসহ রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ঘটনা দেখা যায়নি, যা সরকারের একটি ইতিবাচক দিক। তবে বিভিন্ন সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগের বিষয়টি মানুষ ভালোভাবে নিচ্ছে না।
ডেইলি স্টারের পরামর্শক সম্পাদক ও অন্তর্বর্তী সরকারের গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের প্রধান সাংবাদিক কামাল আহমেদ বলেন, ‘সবার আগে বাংলাদেশ’—এই চিন্তায় শুধু বিএনপি নয়, সবাইকে নিয়ে ভাবতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলোর সংস্কৃতি পরিবর্তন করতে হবে এবং দলগুলোকে শৃঙ্খলা ও নিয়ন্ত্রণের মধ্যে প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
মতামত দিন