Views Bangladesh Logo

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অপসারণে এক দফা আন্দোলনে যাচ্ছেন শিক্ষকরা

পদোন্নতি নিয়ে দীর্ঘদিনের টানাপোড়েন এখন চরম সংকটে রূপ নিয়েছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে। ক্লাস, পরীক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ রেখে শাটডাউনে গেছেন শিক্ষকরা। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, এখন আর শুধু পদোন্নতি নয়—উপাচার্য অপসারণের এক দফা দাবিতে আন্দোলনে নেমেছেন তারা।

আন্দোলনরত শিক্ষকদের অভিযোগ, প্রায় ৬০ শিক্ষক দীর্ঘদিন ধরে পদোন্নতির অপেক্ষায় থাকলেও বর্তমান উপাচার্য ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলম তা বাস্তবায়নে গড়িমসি করছেন। অন্যদিকে উপাচার্য বলছেন, পদোন্নতি হবে শুধুমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)-এর অভিন্ন নীতিমালা অনুযায়ী।

শিক্ষকরা বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব নীতিমালা অনুসরণ করেই পদোন্নতি দিতে হবে। এ নিয়ে দুই পক্ষের অনড় অবস্থানে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে ক্যাম্পাস।

আন্দোলনকারী শিক্ষক নেতা ও সহযোগী অধ্যাপক মো. কাইউম উদ্দিন অভিযোগ করেন, গত ছয় মাস ধরে অর্ধশতাধিক বৈঠক হলেও উপাচার্য কেবল সময়ক্ষেপণ করেছেন।

তিনি বলেন, আমরা সাধারণ সভায় সিদ্ধান্ত নিয়েছি—পদোন্নতি না হলেও চলবে, কিন্তু দ্রুত একজন যোগ্য নতুন উপাচার্য চাই।

তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালের অক্টোবর-নভেম্বরেই ৬০ জন শিক্ষকের পদোন্নতির সুপারিশ সম্পন্ন হয়েছিল। অথচ ইউজিসির অভিন্ন নীতিমালার চিঠি আসে চলতি বছরের ১ জানুয়ারি। তাই নতুন নীতিমালাকে এখন বাধা হিসেবে দেখানোর সুযোগ নেই।

বিশ্ববিদ্যালয়ের জনবল কাঠামো অনুযায়ী, ৪৯টি অধ্যাপক পদের মধ্যে ইউজিসির অনুমোদন রয়েছে মাত্র ১১টিতে। অথচ অধ্যাপক পদে পদোন্নতি প্রত্যাশী ২৪ জন শিক্ষক।

এ ছাড়া ৭৩টি সহযোগী অধ্যাপক পদের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত আছেন ৭৯ জন। সহকারী অধ্যাপক পদেও কাঠামোগত সংকট রয়েছে। ফলে একসঙ্গে বিপুল সংখ্যক পদোন্নতি দিলে প্রশাসনিক ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, অনেক বিভাগে অধ্যাপক পদ মাত্র একটি হলেও সেখানে একাধিক শিক্ষক পদোন্নতির দাবি করছেন। এ অবস্থায় পদবিন্যাস (আপগ্রেডেশন) করে নতুন পদ সৃষ্টির দাবিও তুলেছেন আন্দোলনকারীরা।

উপাচার্য ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলম গণমাধ্যমকে বলেন, আমার সাফ কথা—শিক্ষকদের পদোন্নতি ইউজিসির নীতিমালা অনুযায়ী হতে হবে। আমি আইনের বাইরে যাব না।

তিনি জানান, সংকট সমাধানে শিক্ষকদের সামনে একাধিক বিকল্প প্রস্তাব রাখা হয়েছে। তবে সেগুলো গ্রহণ করা হবে কি না, সেটি শিক্ষকদের সিদ্ধান্ত।

২০১১ সালে প্রতিষ্ঠিত বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে এ পর্যন্ত ছয়জন উপাচার্য দায়িত্ব পালন করেছেন। এর মধ্যে দুজন আন্দোলনের মুখে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই বিদায় নিতে বাধ্য হন।

২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তৎকালীন উপাচার্য ড. বদরুজ্জামান ভূঁইয়াকে ‘আওয়ামী লীগের দোসর’ আখ্যা দিয়ে অপসারণের দাবি ওঠে। পরে দায়িত্বে আসা ড. শুচিতা শারমিনও একই ধরনের আন্দোলনের মুখে আট মাসের মাথায় সরে দাঁড়ান।

বর্তমান উপাচার্য ড. তৌফিক আলমও দায়িত্বের এক বছরের মাথায় একই ধরনের চাপের মুখে পড়েছেন।

এদিকে, চলমান শাটডাউনের কারণে একের পর এক পরীক্ষা বাতিল হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এপ্রিলের শেষ সপ্তাহ থেকে এখন পর্যন্ত বহু পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।

গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী মেহরাব হোসেন বলেন, অনার্স শেষ করেছি। মাস্টার্সে ভর্তি হব। কিন্তু আন্দোলনের কারণে সব আটকে আছে।

অন্যদিকে ডিফেন্স কার্যক্রম চালুর দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন অ্যানিম্যাল সায়েন্স অ্যান্ড ভেটেরিনারি মেডিসিন অনুষদের শিক্ষার্থীরা। তারা একাডেমিক ভবনের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন।

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ