রাশিয়ায় কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে আরও এক বাংলাদেশির মৃত্যু, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪
রাশিয়ার আমুর অঞ্চলের সভোবোদনি শহরের কাছে আমুর গ্যাস কেমিক্যাল কমপ্লেক্সে (এজিসিসি) ঘটে যাওয়া ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মাহিন উদ্দিন নামে আরও এক বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে ওই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় প্রাণ হারালেন চার বাংলাদেশি।
মস্কোয় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রথম সচিব (শ্রম) মিজানুর রহমান এসব তথ্য জানান। তিনি আরও জানান, নিহত মাহিন উদ্দিনের বাড়ি নরসিংদী জেলায়। অগ্নিকাণ্ডের পর আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল, শুক্রবার ভোরে সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।
গত ২৫ আগস্ট ১০ বিলিয়ন ডলার মূল্যের বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম এই পলিমার উৎপাদন প্রকল্পে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটে। রাশিয়ার পেট্রোকেমিক্যাল প্রতিষ্ঠান ‘সিবুর’ ও চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ‘সিনোপেক’-এর যৌথ উদ্যোগে নির্মিত এই প্রকল্পটিতে আগামী বছরের শুরুতে আনুষ্ঠানিক কাজ শুরুর কথা ছিল। চূড়ান্ত ধাপের পরীক্ষা চালানোর সময় দুর্ঘটনাটি ঘটলে শুরুতে সাতজনের প্রাণহানির কথা জানানো হলেও পরবর্তীতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৫ জনে পৌঁছায়, যাদের অধিকাংশই বিদেশি নাগরিক।
দুর্ঘটনায় মোট ৩৬ জন বাংলাদেশি আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হলেও বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের পর ২৬ ও ২৭ আগস্ট জাকির হোসেন ও মো. আলাল হোসেন রাজু নামে দুজন বাংলাদেশি মারা যান। জাকিরের বাড়ি কিশোরগঞ্জের ভৈরবে এবং রাজুর বাড়ি মেহেরপুরের গাংনীতে। ইতোমধ্যে তাদের মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে এবং ৯ সেপ্টেম্বর মরদেহ দুটি দেশে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে।
অন্য দুই নিহত রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার হুগলবাড়িয়ার বাসিন্দা আব্দুল কুদ্দুস এবং নরসিংদীর মাহিন উদ্দিনের মরদেহের দাপ্তরিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার কাজ চলছে। দূতাবাসের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষ করে আগামী ছয় থেকে সাত দিনের মধ্যে তাদের মরদেহও বাংলাদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে।
মতামত দিন