ভাঙ্গায় দুই গ্রামের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ যুবকের মৃত্যু, আহত অন্তত ২০
ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ যুবকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ সদস্য ও সাংবাদিকসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষে অন্তত ২৫টি দোকানে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনাও ঘটেছে।
মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত ভাঙ্গা গোলচত্বর ও ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের দক্ষিণপাড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ সংঘর্ষ হয়। নিহত সুমন মুন্সি (২২) কাপুড়িয়া সদরদী গ্রামের মিলন মুন্সির ছেলে। তিনি এলাকায় একটি ফাস্টফুডের দোকান পরিচালনা করতেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, পূর্বশত্রুতার জেরে কাপুড়িয়া সদরদী ও হাসামদিয়া গ্রামের কয়েকজন যুবকের মধ্যে প্রথমে বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতি হয়। পরে তা দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষে রূপ নেয়। দেশীয় অস্ত্র নিয়ে উভয় পক্ষ মহাসড়কের দুই পাশে অবস্থান নিয়ে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ায় জড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে আশপাশের কয়েকটি গ্রামের লোকজনও সংঘর্ষে অংশ নেয়।
সংঘর্ষ চলাকালে দক্ষিণপাড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকার অন্তত ২৫ থেকে ২৬টি দোকানে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গেলে পুলিশকে লক্ষ্য করেও ইটপাটকেল ছোড়া হয়, এতে কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন। মহাসড়কে কয়েক ঘণ্টা যান চলাচলও বন্ধ থাকে।
নিহতের পরিবারের দাবি, সংঘর্ষের সময় আগ্নেয়াস্ত্রের গুলিতে সুমন আহত হন। তাকে প্রথমে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. তানসিভ জোবায়ের নাদিম বলেন, সুমনের মুখের চোয়াল দিয়ে গুলিসদৃশ একটি বস্তু শরীরে প্রবেশ করে মাথার এক পাশ দিয়ে বেরিয়ে যায়। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হয়ে পড়েছিল।
সুমনের চাচাতো ভাই জিহাদ মুন্সির অভিযোগ, প্রতিপক্ষের এক ব্যক্তি এলোপাতাড়ি গুলি চালালে সেই গুলিতেই সুমনের মৃত্যু হয়।
ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে এবং কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে।
মতামত দিন