সরকারি নথিতে ‘মৃত’ আব্দুল মজিত, জীবিত প্রমাণে ঘুরছেন দ্বারে দ্বারে
নেত্রকোনার দুর্গাপুরে সরকারি নথিতে মৃত দেখানো হলেও বাস্তবে জীবিত ৯০ বছর বয়সী আব্দুল মজিত এখন নিজের অস্তিত্ব প্রমাণে দপ্তরে দপ্তরে ঘুরছেন। ভুল তথ্যের কারণে তার দীর্ঘদিনের বয়স্কভাতা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন তিনি।
উপজেলার চন্ডিগড় ইউনিয়নের মউ গ্রামের এই বৃদ্ধ প্রায় দুই দশক ধরে নিয়মিত বয়স্কভাতা পেয়ে আসছিলেন। তবে দেড় বছর আগে হঠাৎ করেই তার ভাতা বন্ধ হয়ে যায়। পরে খোঁজ নিয়ে তিনি জানতে পারেন, সরকারি রেকর্ডে তাকে মৃত হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।
আব্দুল মজিত বলেন, আগে ভাতার টাকা দিয়ে ওষুধ কিনতাম। প্রয়োজনীয় খরচ চালাতাম। দেড় বছর ধরে কোনো সহায়তা না পাওয়ায় মানবেতর জীবনযাপন করছি। জীবিত থাকা সত্ত্বেও কাগজে মৃত দেখানো জীবনের সবচেয়ে বড় কষ্ট।
তার ছেলে আবুল বাসার জানান, বিষয়টি জানার পর তিনি উপজেলা সমাজসেবা দপ্তরে যোগাযোগ করেন। সেখানে গিয়ে জানতে পারেন, তার বাবাকে মৃত দেখানো হয়েছে। পরে বাবাকে নিয়ে অফিসে গেলেও এখনো কোনো সমাধান পাননি।
স্থানীয় বাসিন্দারাও ঘটনাটিকে প্রশাসনিক গাফিলতি হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, একজন জীবিত মানুষকে কাগজে মৃত দেখানো অত্যন্ত দুঃখজনক ও অবহেলাজনিত ভুল।
উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ইউনিয়ন পরিষদ থেকে পাঠানো হালনাগাদ তালিকায় আব্দুল মজিতকে মৃত হিসেবে উল্লেখ করা হয় এবং একটি মৃত্যুসনদও জমা দেওয়া হয়, যেখানে ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে তার মৃত্যুর কথা বলা হয়েছে। এর ভিত্তিতেই তার পরিবর্তে একই এলাকার অন্য একজনকে ভাতা দেওয়া হচ্ছে।
তবে স্থানীয় ইউপি সদস্য সাইদুল ইসলাম এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি তথ্য হালনাগাদের সময় আব্দুল মজিতকে মৃত হিসেবে দেখাননি।
অন্যদিকে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. মাসুল তালুকদার জানান, ইউনিয়ন পরিষদ থেকে পাঠানো তালিকা ও সনদের ভিত্তিতেই ভাতা পরিবর্তন করা হয়েছিল। বিষয়টি এখন পুনরায় যাচাই করা হচ্ছে এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে আব্দুল মজিতকে আবারও ভাতা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে