নারী ভুক্তভোগীকে কটূক্তি করা সেই ওসিকে প্রত্যাহার
বিভিন্ন অভিযোগ ও সমালোচনার প্রেক্ষিতে বরগুনার পাথরঘাটা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ এনামুল হককে বর্তমান কর্মস্থল থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) ও পুলিশ সুপার (ভারপ্রাপ্ত) এফ. এম. ফয়সাল স্বাক্ষরিত আদেশে ওসি মোহাম্মদ এনামুল হককে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত পাথরঘাটা থানা থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ সুপারের কার্যালয়, বরগুনায় সংযুক্ত করা হয়েছে।
অফিস আদেশে প্রত্যাহারের সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ উল্লেখ না করা হলেও এনামুল হকের বিরুদ্ধে স্থানীয় পর্যায়ে বেশ কিছু গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি ফাতিমা জমাদ্দার অর্পা নামের এক নারী এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে মামলা করতে গিয়ে ওসির কাছে অপদস্ত হওয়ার অভিযোগ তোলেন। আদালতের স্পষ্ট নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও মামলা গ্রহণে টালবাহানা ও হয়রানি করার দাবি করেন ওই ভুক্তভোগী।
ফাতিমা জামাদ্দার অর্পার সঙ্গে ওসি এনামুল হকের কথোপকথনের একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়ে। এতে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। অভিযোগে বলা হয়, ওই কথোপকথনে ওসি আপত্তিকর ভাষা ব্যবহার করেন।
মামলা সূত্রে জানা যায়, অ্যাসিড-সংক্রান্ত একটি ঘটনায় ফাতিমা জামাদ্দার অর্পা বরগুনার অ্যাসিড অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালে একটি মামলা করেন। আদালত মামলাটি এজাহার হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেওয়ার পরও থানায় তা নথিভুক্ত করতে দেরি করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
পরবর্তীতে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হলেও পরে তাকে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগও ওঠে। এরপর ভুক্তভোগীর ওপর হামলার ঘটনা ঘটে, যার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগী অর্পা অভিযোগ করেন, মামলার অগ্রগতি জানতে থানায় একাধিকবার যোগাযোগ করেও তিনি সাড়া পাননি। পরে ব্যক্তিগত নম্বর থেকে ওসির সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি অসৌজন্যমূলক আচরণের শিকার হন।
ভাইরাল হওয়া ফোনালাপে ওসিকে বলতে শোনা যায়—‘আপনি সেই মাল? ইবলিস যেন কোথাকার’। এ নিয়ে তীব্র সমালোচনা তৈরি হয়। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় পর্যায়েও ক্ষোভ দেখা দেয়।
তবে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে সরিয়ে বরগুনা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হলেও অফিস আদেশে নির্দিষ্ট কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি; কেবল ‘প্রশাসনিক কারণে’ পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
ভুক্তভোগী নারী অর্পা এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তার কাছ থেকে এমন আচরণ গ্রহণযোগ্য নয় এবং দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।
মতামত দিন