‘পুলিশের চাকরি ওয়ান কাইন্ড অব বিজনেস’—বক্তব্যে দেওয়া ওসি প্রত্যাহার
‘পুলিশের চাকরি ওয়ান কাইন্ড অব বিজনেস’– এমন বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর নেত্রকোণার কলমাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুল হাশেমকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। এছাড়া এ ঘটনায় গঠন করা হয়েছে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি।
নেত্রকোণা পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলাম জানান, রোববার সকালে ওসি মো. আবুল হাশেমকে প্রত্যাহার করে পুরিশ লাইনসে যুক্ত করা হয়েছে। একইসঙ্গে জেলা পুলিশের (ডিএসবি ) গোয়েন্দা শাখার অতিরিক্তি পুলিশ সুপার হাফিজুল ইসলামকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমটি গঠন করা হয়েছে। আগামী পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গতকাল শনিবার ভাইরাল হওয়া ওই অডিওতে থানার পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশ্যে আবুল হাশেমকে বলতে শোনা যায়, ‘পুলিশের চাকরি এক ধরনের ব্যবসা।’ পাশাপাশি অভিযোগ নিষ্পত্তি, অর্থ লেনদেন এবং থানার অভ্যন্তরীণ সমন্বয় নিয়ে বিভিন্ন মন্তব্যও করা হয়।
অডিওতে বলতে শোনা যায়, ‘পুলিশের চাকরি ওয়ান কাইন্ড অব বিজনেস (এক ধরনের ব্যবসা)। আমরা কেউ কাউকে ঠকাব না। সবাই মিলেমিশে থাকব। ধরেন দুই হাজার টাকা আমি খরচ করলাম, এই টাকা তো আমার বা ড়ির টাকা না, বেতনের টাকাও না। আপনারা একটা অভিযোগ দিলেন এক হাজার টাকা, আরেকটা খারিজ কইরা ফেললেন এক হাজার টাকা, ওইটা দিয়েই কিন্তু আমি পাড়ি দিয়া দিলাম। তাইলে আমার তো রিস্ক নাই, নো টেনশন, খুব রিলাক্সে আছি।’
ওসি বলেন, ‘পুলিশের যে চাকরিটা এটা ওয়ান কাউন্ড অব বিজনেস। সবাই কিন্তু এই বিজনেসের সঙ্গে জড়িত না। আমরা কিন্তু একজন আরেকজনরে সেইফে রাখছি। সবাই সমন্বয় করে চলতে হবে। ওসির মাথায় কিন্তু কাঠাল ভেঙে খাইতে পারবেন না। সর্বোপরি আমি আপনাদের ঠকাবো না, আমি কি বাড়ি থেকে টাকা এনে খরচ করতাছি, না জমি বেইচ্যা আইন্যা আপনাদের চালাইতেছি। সবাই যেন ভালো থাকতে পারি। যার যেই অধিকার সে যেন সেটা পায়। আমার যারা কনস্টেবল আছে তারা যেন যেটা পাওয়ার সেটা পায়, তারা যেন বঞ্চিত না হয়। হক মারা আমি পছন্দ করি না। কারণ যারা হক মারে রাসূল (সা.) তারে সাফায়েত করবেন না। এটাই কিন্তু ফাইনাল কথা। কেউ চালাকি করবেন না। বর্তমান মিডিয়া অনেক এগিয়ে আছে।’
ওসি আরও বলেন, ‘বর্তমানে গুপ্ত-গুপ্ত একটা শব্দ আছে, এই শব্দটা আবিষ্কার করছে তারেক জিয়া (প্রধানমন্ত্রী)। আপনারা যে গুপ্ত-গুপ্ত থাকার চেষ্টা করেন এইটা কিন্ত আমরা বুঝতেছি। এই যে সেই দিন মামলাটা হইল না, এখান থেকে টাকা পয়সা নিয়েছেন। অনেকে আমার কাছে আসছিল টাকা পয়সা নেওয়ার বিষয়ে জানতে। আমি কিন্তু কিছুই জানি না। তারপরও তাদের নানান কিছু বুঝাইয়া দৌড়াইয়া দিছি। আমরা যারা সিস্টেমের মধ্যে আছি, তারা যেন মিলে ঝুলে চলি। বেশি চালাকির দরকার নেই। যে কোনো কাজে আমরা নিজেদের কাউরে বিপদেও ফেলব না, কাউরে ঠকাবও না। আরেকটা বিষয় আছে কিছু কিছু ঘটনায় জায়গাতেই চার্জশিট, জায়গাতেই ফাইনাল, ওসি কিছুই জানল না! আরে ভাই আপনি তো নিজেই থানা একটা খুইল্যা ফেললেন। থানায় তো একজন ওসি আছে, তার সঙ্গে সমন্বয় করবেন। নাইলে নয়টা কইরা ফেললেন দশটার সময় ধরা খাবেন। তখন বুইজেন খবর আছে।’
তবে ভাইরাল হওয়া অডিওর সত্যতা এখনো নিশ্চিত হয়নি। ওসি মো. আবুল হাশেম ভাইরাল বক্তব্যটি নিজের নয় বলে দাবি করেছেন। তাছাড়া পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও বলছেন তদন্তের আগে বিষয়টির সত্যতা নিয়ে বলা সম্ভব নয়।
তবে ভাইরাল হওয়া অডিওর সত্যতা এখনো নিশ্চিত হয়নি। ওসি মো. আবুল হাশেম দাবি করেছেন, অডিওতে থাকা কণ্ঠ তার নয় এবং কীভাবে এটি তার নামে প্রচার হচ্ছে, তা তিনি জানেন না।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাফিজুল ইসলাম জানান, তদন্ত কাজ শুরু হয়েছে এবং পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।
পুলিশ সুপার তরিকুল ইসলাম বলেন, তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনি ও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে