থানায় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে মারধর, ওসিসহ ৫ পুলিশ ক্লোজড
রংপুর মহানগরীর কোতোয়ালি থানার ভেতরে স্বেচ্ছাসেবক দলের এক নেতাকে পিটিয়ে রক্তাক্ত করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ (ওসি) পাঁচ পুলিশ সদস্যকে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত (ক্লোজড) করার পাশাপাশি একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দুপুরে রংপুর মহানগর পুলিশের মিডিয়া সেল থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
ক্লোজড হওয়া পুলিশ সদস্যরা হলেন কোতোয়ালি থানার ওসি আজাদ রহমান, নারী কনস্টেবল লিমা সরেন, কনস্টেবল বাসুদেব, ডিউটি অফিসার মেহেরুন্নেসা ও উপপরিদর্শক (এসআই) মাসুদ রানা। এর আগে বুধবার (৩ জুন) রাত সাড়ে ৯টার দিকে থানার ভেতরে মারধরের ঘটনা ঘটে; ওই রাতে তিনজন এবং বৃহস্পতিবার দুপুরে ওসিসহ আরও দুজনকে ক্লোজড করা হয়।
ঘটনার প্রকৃত তথ্য উদ্ঘাটনে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (প্রশাসন ও অর্থ) নরেশ চাকমাকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন ডিসি (ক্রাইম) মো. মাহফুজুর রহমান ও কোতোয়ালি জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) সুকুমার রায়।
মারধরের শিকার নেতার নাম রাকিবুল ইসলাম রাকিব। তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের রংপুর সদর উপজেলা কমিটির সদস্যসচিব। তার অভিযোগ, থানার ভেতরে ওসি আজাদ রহমানের নেতৃত্বে কয়েকজন পুলিশ সদস্য তাকে মারধর করে রক্তাক্ত করেন।
ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, ঈদের আগে নগরীর সিও বাজার এলাকায় এক প্রেমিক যুগল নিখোঁজ হলে পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছিল। তাদের উদ্ধারের পর বুধবার সন্ধ্যায় থানায় আনা হয়। পরিবারের অনুরোধ ও লাভলু নামের এক নেতার ডাকে বিষয়টি মীমাংসায় রাকিবসহ স্বেচ্ছাসেবক দলের কয়েকজন নেতা থানায় যান। অভিযোগ, সেখানে গিয়ে রাকিব দেখতে পান এক পুলিশ সদস্য ওই যুগলকে মারধর করছেন। এ নিয়ে আপত্তি জানিয়ে দলের এক নেতাকে ফোন করতে গেলে ওসিসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য তার ওপর চড়াও হয়ে বেধড়ক মারধর করেন।
ঘটনার খবরে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা থানার সামনে জড়ো হন। সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় রাকিবের শরীরে রক্তের দাগ ও চোখে আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়। কাঁদতে কাঁদতে রাকিব অভিযোগ করেন, বারবার পরিচয় দিয়ে অনুরোধ করার পরও ওসি ও এসআই তাকে মারধর করেন এবং তার দুটি ফোন কেড়ে নেওয়া হয়। তিনি এ ঘটনার বিচার দাবি করেন।
ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে রংপুর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব জাকারিয়া ইসলাম জিম বলেন, পুলিশের আচরণে তারা ক্ষুব্ধ। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে কঠোর আন্দোলন এমনকি থানা ঘেরাওয়ের হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
রংপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ বলেন, ওসিসহ পাঁচজনকে ক্লোজড করা হয়েছে এবং তদন্ত কমিটি নিরপেক্ষভাবে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেবে।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে