Views Bangladesh Logo

মুক্তিযোদ্ধার দাফনে বাধা, ক্ষুব্ধ সোহেল রানা বললেন, 'এবার আর ক্ষমা নয়'

অভিনেতা, প্রযোজক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা সোহেল রানা ফেসবুকে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি লিখেছেন, একাত্তরের রণাঙ্গনের এক বীর মুক্তিযোদ্ধার কবর দিতে স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি বাধা সৃষ্টি করেছে। কন্যা নিজ হাতে মাটি খুঁড়ে বাবার কবর তৈরি করেছেন। আগের খোঁড়া কবরটি পরাজিত শত্রুরা মাটি দিয়ে ভরাট করে দিয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

সোমবার দেওয়া পোস্টে সোহেল রানা প্রশ্ন তোলেন, স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তি নাকি এখন সরকার চালাচ্ছে, অথচ এর কোনো আলামত দেখা যাচ্ছে না।

প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যার মতো কঠোর শাস্তির কথাও লেখেন তিনি, আর সরকারের কাছে সঠিক জবাব চান। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা পরের প্রজন্মের কাছে পৌঁছাতে ব্যর্থতার কথা বলে তিনি লেখেন, প্রতিবাদ বা প্রতিরোধ কোনোটাই চোখে পড়ছে না। পোস্টের শেষে তিনি আহ্বান জানান, মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের সবাই জেগে উঠুক, এবার আর ক্ষমা নয়।

এর আগে শনিবার দুপুরে পিরোজপুরের বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর মরদেহ জেলায় আনা হয়। তিনি ছিলেন একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধে সাজাপ্রাপ্ত দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার বাদী। রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার দিতে মরদেহ সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরে নেওয়া হলে সেখানে স্থানীয় জামায়াতের নেতা-কর্মীরা জড়ো হন। স্বজনদের অভিযোগ, এরপর গার্ড অব অনার ও দাফন নিয়ে বাধা তৈরি হয়।

পরে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হলে নিজ বাড়িতে দাফনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তখনও জামায়াতের নেতা-কর্মী ও সমর্থক জড়ো হয়ে বাধা দেন। একপর্যায়ে তাঁর জন্য খোঁড়া কবর মাটি দিয়ে ভরাট করে ফেলা হয়। এভাবে প্রায় ১৭ ঘণ্টা তাঁর দাফন আটকে ছিল। পরিবারের অভিযোগ, প্রশাসনের কাছ থেকেও তাঁরা প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পাননি।

শেষ পর্যন্ত কবর খুঁড়তে কেউ এগিয়ে না আসায় পিরোজপুরের চিথলিয়া গ্রামে গভীর রাতে মোবাইল ফোনের আলোয় মেয়ে সীমু আক্তার ও তাঁর দুই ফুফু কোদাল হাতে কবর খোঁড়েন। রাত পৌনে তিনটার দিকে পুলিশি নিরাপত্তায় দাফন সম্পন্ন হয়। দাফন হলেও নিজ এলাকায় তাঁর কোনো জানাজা হয়নি বলে জানা গেছে। ঘটনা নিয়ে দেশজুড়ে সমালোচনা ও প্রতিবাদ চলছে।

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ